ঢাকা, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, ২২ মুহররম ১৪৪৮

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৮ শিক্ষার্থী নিহত

প্র্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০:২৬, ৮ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৮ শিক্ষার্থী নিহত

ছবি :সংগৃহীত

টানা ভারি বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মাদ্রাসার ওপর পাহাড় ধসের ঘটনায় আট শিশু নিহত এবং পাঁচ শিশু আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫ এর ব্লক এ-৭/৩ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিজানুর রহমান জানান, ক্যাম্প-৫ এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় মোট ১৩ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং অপর চারজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

অবশিষ্ট পাঁচজন শিশুকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫ এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-৬ এর আইআরসি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে এবং সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন এবং পুরো উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেছেন আরআরআরসি কর্মকর্তারা।’

প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা নাগরিক একে মোহাম্মদ সাদেক জানান, ঘটনাস্থলে মেয়েদের একটি মাদ্রাসা এবং তার ওপরে একটি মক্তব ছিল। মাটি ভরাট করে মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল ধসে মাদ্রাসাটির ওপর পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ক্যাম্পের বাসিন্দা করিম শাহাদাত  জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় ৩০ থেকে ৫০ জনের বেশি ছাত্রী কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল।  এসময় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ধস শুরু হলে কয়েকজন ছাত্রী দৌড়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। তবে বেশিরভাগই কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

ঘটনার পরপর ক্যাম্পের বাসিন্দারা হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করেন।

উখিয়া ফায়ারসার্ভিস ও স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ি ঢালুর নিচে হওয়ায় মাদ্রাসাটির উপর ভারি বর্ষণের ফলে পাহাড়ের ঢাল ভেঙে পড়ে। এখন পর্যন্ত আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিক আব্দুল্লাহর দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন