ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

২৬ পৌষ ১৪৩২, ২০ রজব ১৪৪৭

এলপিজি সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অসহায় সরকার ও জনগণ

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

প্রকাশ: ১৮:০৯, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

এলপিজি সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অসহায় সরকার ও জনগণ

ছবি :সংগৃহীত

হঠাৎ করেই গণমাধ্যমে চোখ পড়লো, চোখ আটকে গেল একটি সংবাদে। সংবাদটি হলো ‌'বৃহস্পতিবার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ‍্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছে তারা।'  প্রশ্ন দেখা দিল মনে তাদের কি দাবী ? সকল দাবীই এই সকল ব্যবসায়ীদের ? ভোক্তা বা দেশের নাগরিকদের কি কোন দাবী থাকতে পারে না ? জনগনকে জিম্মি করে এভাবে দাবী আদায় করার নামে যারা আন্দোলন করে তারা কি আসলেই ব্যবসায়ী ? নাকি লুটেরা ?

ইতিমধ্যে গত কয়েকদিনে রান্নার জন্য অপরিহার্য এই পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।  দেশের লাখ লাখ পরিবার দৈনন্দিন রান্নার জন্য এলপি গ্যাসের ওপরে নির্ভরশীল। বিশেষ করে শহুরে পরিবারে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করারও সুযোগ নাই। জীবন ধারণের এমন গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ নিয়ে গত কয়েক দিন যা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির যে গতিপথ বোঝা যাচ্ছে, তা হতাশাজনক।

বাজারে এমনভাবেই সসংকট তৈরী করেছে অসৎ ব্যবসায়ীরা যে, টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি সিলিন্ডার। সারা দেশে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভোক্তা পর্যায়ে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না কোম্পানিগুলো। এ সুযোগে ভোক্তাদের জিম্মি করে দ্বিগুণ দামে এলপিজি বিক্রি করছে এক দল অসাধু ব্যবসায়ী। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে বাসা বাড়ি, রেস্তোরার এলপিজি ব্যবহারকারীরা। ভোক্তাদের জিম্মি করে চড়া মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফোনে ১২ কেজি এলপিজির মূল্য ২২০০/২৫০০ টাকা বললেও সাংবাদিক বা টিভি ক্যামেরা দেখে এর মূল্য হয়ে যায় ১৫০০ টাকা। কেন? কি কারণ ? এর উত্তর নাই যেন কারো কাছে। বিক্রেতারা দাবী করেন ১৫০০ টাকায় এলপিজি বিক্রি করছেন তারা, তবে পাল্টা অভিযোগ ক্রেতাদের। ক্রেতারা জানান, ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে এলপিজি।

বড় কোম্পানিগুলো সাপ্লাই দিতে পারছে না। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি হয়েছে। একটা গাড়ি একদিন গেলে চার পাঁচদিন পর পর লোড হয়। সরবারহকারী কোম্পানিগুলো দাবী করেছে, শীতে চাহিদা বেশি থাকলেও ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা ও জাহাজ সংকটের কারণে তৈরি হয়েছে এ সংকট। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, কোম্পানিগুলো বিভিন্ন উৎস থেকে এলপিজি সংগ্রহ করে। তবে ভূ-রাজনৈতিক কারণে একটি বড় নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এলপিজি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এটা অন্যতম কারণ। মনে হচ্ছে এ সমস্যা সমাধানে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ দিন কিংবা তার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে। যা উদ্বেগজনক। এর ফলে পুরো এলপিজি বাজারকে অস্থিতিশীল করে জনগনের পকেট লুট করছে অসৎ ব্যবসায়ীরা। ক্রাইসিস হওয়ার ফলে কি মূল্য বৃদ্ধি এভাবে করতে পারে ব্যবসায়ীরা ? ব্যবসায়ীদের এই যুক্তি কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য না। কারণ সরবরাহ কম হলেও গ্যাসের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে না। কেননা গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে।

 প্রতি মাসের প্রথম দিকেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য নির্ধারণ করে দেয় বিইআরসি। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, সরকারনির্ধারিত সেই সূল্যে এলপিজি বিক্রি হয় না কখনোই। সিলিন্ডারপ্রতি ভোক্তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় অতিরিক্ত ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এই হিসাবে মাসে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ভোক্তার কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে এলপিজি সিন্ডিকেট। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায় যে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এলপিজির চাহিদা ৯০ লাখের বেশি। সেই হিসেবে প্রতিটি সিলিন্ডার থেকে যদি ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা বেশি নেওয়া হয় তাহলে গড়ে মাসে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা লুটে নেওয়া হচ্ছে গ্রাহকের পকেট থেকে। তারপরও কেন এই অরাজকতা সৃষ্টি করে জনগনের পকেট কাটছে তারা ?

এলপিজির এই পরিস্থিতির জন্য এক অপরকে দোষারোপ করে থাকে সংশ্লিষ্টরা। খুচরা বিক্রেতারা দোষারোপ করছেন ডিলারদের, ডিলাররা দোষারোপ করছেন বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। আর বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুষছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি)। কিন্তু এই ফাঁকে লুটপাটের শিকার হচ্ছেন ভোক্তরা। ২৮টি কোম্পানি বর্তমানে এলপি গ্যাসসিলিন্ডারে ভরার ব্যবসা করছে। এসব কোম্পানির কর্তাব্যক্তিদের দাবি করে থাকে, বিইআরসির দাম নির্ধারণ ফর্মুলা বাস্তবসম্মত নয়। পরিবহনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ সমন্বয় করা হয় না এতে। তারা আরো দাবী করেন, বাজার অস্থিতিশীল কোনোভাবেই হতো না যদি বিইআরসি ও অপারেটরদের সমন্বয়ে ডিস্ট্রিবিউটরদের রিয়াল মার্জিনটা তুলে ধরা হতো। প্রাইসিং ফর্মুলা অ্যাকিউরেট করতে হবে। না হলে ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলাররা সারভাইভ করতে গিয়ে দাম বাড়াবেই।

 বাজারে কিছু সংকট দেখা দেয় প্রকৃতি ও বৈশ্বিক বাজারের কারণে, আর কিছু সংকট তৈরি হয় মানুষের সচেতন কারসাজিতে। বাংলাদেশের চলমান এলপিজি সংকট তৈরী হয়েছে ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার উধাও করে দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরী করা হয়েছে। এটিকে বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা বলা যায় না। এটি দিনের আলোয় ডাকাতি, যার পেছনে রয়েছে সংগঠিত স্বার্থগোষ্ঠী এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। এলপিজি কোনো বিলাসী জ্বালানি নয়। এটি শহর ও উপশহরের লাখো পরিবারের রান্নাঘরের প্রধান ভরসা। যেখানে পাইপলাইনে গ্যাস নেই, কিংবা থাকলেও নিয়মিত সংকট, সেখানে এলপিজিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য বিকল্প। নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর, মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এলপিজি হয়ে উঠেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি। হোটেল-রেস্তোরাঁ, ছোট খাবারের দোকান, ভাসমান ব্যবসায়ী সবার উৎপাদন খরচ গ্যাসের দামের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে এলপিজির সংকট শুধু রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি ধীরে ধীরে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়া হচ্ছে।

এলপিজি সিন্ডিকেট আকস্মিক ও অযৌক্তিকভাবে এলপিজির মূল্য সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে প্রায় দ্বীগুন মূল্যে বিক্রি করে জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছে। অথচ সরকার কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন না করে নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিন্ডিকেট লুটছে জনগণকে অথচ ভোক্তাদের দুর্ভোগ নিয়ে নীরব ড. ইউনূস সরকার ও তার প্রশাসন। মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সিন্ডিকেট দমনের কোনও উদ্যোগই লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। সরকারের এমন নজিরবিহীন ব্যর্থতা ক্ষমার অযোগ্য।

দেশের লাখো পরিবারের রান্নাঘরের একমাত্র জ্বালানি এখন এলপিজি। শহর থেকে মফস্বল সবখানেই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তাছাড়া পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ থাকলেও যথাসময়ে গ্যাস সংকট থাকায় সিলিন্ডার গ্যাসই এখন ভরসা। সেই প্রয়োজনীয় জ্বালানীর বাজারে যদি হঠাৎ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটানো হয়, তবে তা শুধু অনৈতিকই নয়, সরাসরি জনজীবনের ওপর আঘাত। এলপিজির সংকট হঠাৎ করেই সৃষ্টি হয়নি, বরং এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল তদারকিরই ফসল। সরকার নিয়মিত মুল্য সমন্বয় করলেও সরবরাহ, মজুত ও খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা জনগণের পকেট লুটের সুযোগ নিচ্ছে। শীত মৌসুমে এলপিজির চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এটা কোন নতুন বিষয় নয়। অথচ এই বাস্তবতা জানা থাকা সত্ত্বেও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্য বৃদ্ধির পথ সুগম হয়েছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এলপিজি বাজারও অস্থির, কিন্তু সেখানের বাজারগুলোতে রাষ্ট্রীয় তদারকি সেই অস্থিরতাকে সীমিত রাখে। ভারতের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। তারা রান্নার গ্যাসকে প্রায় জনসেবার মর্যাদা দিয়ে থাকে। বেসরকারি বিতরণ থাকলেও, রয়েছে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে নজরদারি এবং প্রয়োজন হলে সরকার হস্তক্ষেপ করে থাকে। মূ্ল্য বৃদ্ধি হলেও তা হয় নিয়ন্ত্রিতভাবে। বাংলাদেশে বাজার উন্মুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু সেই বাজার পরিচালনার জন্য যে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কাঠামো দরকার, তা গড়ে তোলা হয়নি।

চলমান এই সংকট দেশকে একটি বড় সত্যের মুখোমুখি দাড় করিয়েছে। বাজার ব্যর্থ হয় শুধু বেসরকারি শক্তি প্রয়োগ করে নয়, বাজার ব্যর্থ হয় যখন আইন প্রয়োগ হয় না, আর নিয়ন্ত্রণ হয় নির্বাচিতভাবে। প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে দুর্বল রাষ্ট্র মানেই শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আমাদের সামনে এখন পরিষ্কার একটি পথ। হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার জনস্বার্থে পরিচালিত হবে, নয়তো তা সিন্ডিকেটের হাতে বন্দিই থাকবে।

. কিন্তু দাম ঘোষণা করাই যদি শেষ দায়িত্ব হয়, তাহলে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন কী? মাঠপর্যায়ে তদারকি ছাড়া মূল্যনির্ধারণ অর্থহীন। বিইআরসির হাতে জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল, এমনকি কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কী বলছে! এ রকম পরিস্থিতি বাংলাদেশে নতুন নয়। চাল, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, সার একাধিক পণ্যের বাজারে জনগন একই চিত্র দেখেছে যুগের পর যুগ। একটি পণ্য নিত্যপ্রয়োজনীয় হলেই, তার সরবরাহ কিছু হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। তদারকি দুর্বল হলেই কৃত্রিম সংকট তৈরী করা হয়। এর ফলে মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং ভোগান্তি চরমে ওঠে। এলপিজি সেই পুরনো গল্পেরই নতুন সংস্করণ মাত্র। এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে, এলপিজি খাতের কাঠামোগত বাস্তবতা। পাইপলাইনের গ্যাসের মতো এখানে রাষ্ট্রীয় কোনো বাফার মজুদ নেই। প্রায় পুরো বাজারই বেসরকারি কোম্পানির হাতে। ফলে সরকার চাইলেও, হঠাৎ করে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ সীমিত।

সকলকেই মনে রাখা প্রয়োজন এলপিজি কোনো বিলাসী পণ্য নয়, এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি। দেশের লাখো পরিবারের রান্নার একমাত্র ভরসা। সেই জ্বালানির মূল্য যদি এভাবে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়, কিংবা সংকট তৈরি হয় তা হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানীকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, হতে পারে না। সরকারকে দ্রুত জরুরীভাবে সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে এবং যারা এই কৃত্রিম সংকট তৈরী করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে এলপিজি মজুত ও সরবরাহের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে, যাতে গুজব ও কারসাজির সুযোগ কমে আসে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংস্থার যৌথ অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। সরকারের ঘোষিত মূল্য কার্যকর করতে হলে কাগুজে সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।

এলপি গ্যাস আমদানি, বিতরণ ও বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত পক্ষগুলো এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাঝে সমন্বয়হীনতা ও স্বার্থ-কেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে এত জটিল করেছে। পুরো ব্যবস্থাপনায় নাগরিকের স্বার্থ দেখার কেউ নাই। তাই এই ক্ষেত্রে সরকারকে দ্রুত, যৌক্তিক ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যে করেই হোক জনগণের ভোগান্তি লাঘব করতেই হবে।

(লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক )

আরও পড়ুন