শাহরিয়ার মিল্টন , শেরপুর থেকে
প্রকাশ: ২১:৪৫, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
মাসকলাইয়ের ডালের জিলাপি শেরপুরের ভোজন রসিকদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। মিষ্টি জাতীয় এই পণ্যটি জেলায় প্রায় দেড়শ বছর যাবত দাপটের সাথে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। স্থানীয়ভাবে যা আমিত্তি নামেও বহুল প্রচলিত। এই জিলাপির সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় অন্য জেলার ক্রেতারাও আসেন এর স্বাদ উপভোগ করতে।
মিষ্টি ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিবছর রোজার মাসে মাসকলাইয়ের ডালের জিলাপির চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। জেলার বিভিন্ন ইফতার মাহফিলে এই জিলাপির বিকল্প নেই। শুধু রমজান মাসেই বিক্রি হয় ২০-২৫ লাখ টাকার মাসকলাইয়ের ডালের জিলাপি। জেলা শহরের মিষ্টি ব্যবসার প্রাণ কেন্দ্র গোয়ালপট্টি এলাকার ১০-১২ টি মিষ্টির দোকানে মাসকলাইয়ের ডালের জিলাপি তৈরি করা হয়।
জিলাপি তৈরির করিগররা জানান, প্রথমে মাসকালাইয়ের ডাল ভালোভাবে ধুয়ে তা পানিতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর শিলপাটায় অথবা মেশিনের সাহায্যে ওই ডাল পিষে মন্ড তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে ওই মন্ডের সাথে সামান্য কিছু চালের গুড়া এবং বেসন মিশিয়ে জিলাপি তৈরির মূল উপাদান তৈরি করা হয়। এরপর কাপড় অথবা নারিকেলের খোলের মধ্যে ওই মন্ড রেখে গরম তেলের মধ্যে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর ওই তেল থেকে জিলাপিগুলো তুলে চিনির রসের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে তুলে ফেলা হয়। এরপর এই জিলাপি বিক্রি উপযোগী হয়। আর প্রতি কেজি জিলাপি বিক্রি হয় ২০০-২২০ টাকার মধ্যে।
জিলাপি ক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, প্রতিবছর এই জিলাপির দাম বেড়েই চলছে। তারপরও যেহেতু ইফতারের জন্য এই জিলাপি খেতে হয় তাই দামের দিকটা বিবেচনা করা হয় না। মচমচে রসালো গরম গরম জিলাপি ইফতারে প্রশান্তি দেয়।
মিষ্টি ব্যবসায়ী রমেন ঘোষ বলেন, ডাল তেল চিনিসহ অন্যসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাসকলাইয়ের ডালের জিলাপির দামও বেড়েছে। রোজাদারদের পছন্দের তালিকায় মাসকলাইয়ের জিলাপি এক নম্বরে থাকে। এই সময় প্রতিদিন গোয়ালপট্টি এলাকায় অন্তত ১০ মণ জিলাপি বিক্রি হয়।
গোয়ালপট্টি এলাকার নন্দ গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী ভোলানাথ ঘোষ বলেন, শেরপুরে জমিদারি প্রথার শুরু থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে মিষ্টি তৈরির প্রচলন শুরু হয়েছিল। তখন থেকেই নানা মিষ্টির পাশাপাশি এই মাসকলাইয়ের জিলাপি তৈরি করা হতো। সেই থেকে আজও প্রতিবছর রোজার মধ্যে এই মাসকলাইয়ের জিলাপি বিক্রি করা হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জিলাপির দাম প্রতিবছরই কিছু কিছু বাড়লেও গুণগতমান একই রয়েছে। কোনোরকম রঙ বা কেমিক্যাল ব্যবহার না করে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ অতি যত্নসহকারে মাসকলাইয়ের জিলাপি তৈরি হয়।