ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, ২২ মুহররম ১৪৪৮

 পাইকগাছায় ২কিঃমিঃ রাস্তায় ৯০ ফুট কাঁচায় জনদুর্ভোগ চরমে! 

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০০:৩৭, ৯ জুলাই ২০২৬

 পাইকগাছায় ২কিঃমিঃ রাস্তায় ৯০ ফুট কাঁচায় জনদুর্ভোগ চরমে! 

ছবি:বাংলার চোখ

খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বিরাশী ও বারুইডাঙ্গা গ্রামে গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে। ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ইটের সলিং রাস্তার মাঝে মাত্র ৯০ ফুট অংশ কাঁচা ফেলে রাখায় এবং পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কালভার্টটি মরণফাঁদে পরিণত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিন গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এই জনগুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলটি দেখার যেন কেউ নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার কপিলমুনি ইউপির আগড়ঘাটা বাজার ভেদামারী মোড় হতে মরহুম মাওলানা শামছুর রহমানের বাড়ি অভিমুখে বিরাশী নতুন পুকুর হয়ে পূর্ব দিকে ব্যবসায়ী মোঃ ছুরমান গাজীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কি:মি: রাস্তা ইটের সলিং দ্বারা উন্নত করা হয়েছে। এমনকি আশপাশের শাখা রাস্তা গুলোও সলিংয়ের আওতায় এসেছে। তবে রহস্যজনক ভাবে, ব্যবসায়ী ছুরমান গাজীর বাড়ির সামনে কাদের সরদারের বাড়ির উত্তর পার্শ্বের পুকুর সংলগ্ন স্থান হতে স্থানীয় ইমাম মোঃ সোহরাব গাজীর বাড়ি পর্যন্ত মাত্র ৯০ ফুট রাস্তা কাঁচা রেখে দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে পুরো গ্রামের রাস্তা সলিং করা হলেও এই অল্প একটু অংশ কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বাদ পড়ে যায়। আর তখন থেকেই বছরের পর বছর এই ৯০ ফুট রাস্তাটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বিরাশী গ্রামের অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় এই সামান্য কাঁচা অংশটুকু কর্দমাক্ত হয়ে একাকার হয়ে গেছে। ফলে গ্রামবাসীর পক্ষে বাজার, ক্ষেত-খামার, স্কুল কিংবা মসজিদে যাতায়াত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। অবর্ণনীয় এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত রাস্তাটির বাকি অংশ সলিং করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কপিলমুনি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস আলী বলেন, আমি অতি সম্প্রতি এই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, যার কারণে বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার কারণে মানুষের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তা নিরসনে আমি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি ৯০ ফুট রাস্তা ইটের সলিংয়ের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

এদিকে যাতায়াতের দুর্ভোগের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে জলাবদ্ধতার আতঙ্ক ! বারুইডাঙ্গা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছুরমান গাজীর পোল্ট্রি খামার হতে মোহাম্মদ সরদারের বাড়ির অভিমুখে চলাচলের রাস্তার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত একমাত্র কালভার্টটি দীর্ঘকাল ধরে চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। রাস্তার দু'পাশের খালের পানি নিষ্কাশন এবং বারইডাংঙ্গা, বিরাশী ও শ্যামনগর এই তিন গ্রামের হাজারো মানুষের সংযোগের একমাত্র মাধ্যম এই কালভার্টটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালভার্টটির অবস্থা এতটাই না/জুক যে এটি এখন যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এই কাঠামোর ওপর দিয়ে বর্তমানে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, চলতি বর্ষা মৌসুমে কালভার্টটি ধসে পড়লে তিন গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে কৃত্রিম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

এ বিষয়ে ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ বদরুল আলম জানান, কালভার্টটির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাসকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি, জনগণের কষ্ট লাঘবে প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নেবে।

জনদুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পাইকগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস বলেন, উক্ত কালভার্টটি সংস্কারের জন্য একটি আবেদন আমি পেয়েছি। তবে এই মুহূর্তে সরকারি বিশেষ তহবিল বা বরাদ্দ না থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। আমি খুব দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবো, যাতে জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ এনে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যায়।

এ দিকে বিরাশী, বারুইডাঙ্গা ও শ্যামনগর গ্রামের সাধারণ মানুষের দাবি-কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা বরাদ্দের অজুহাতে যেন এই জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ দুটি আটকে না থাকে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন