আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:৫৬, ৩ জুলাই ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে এসে পৌঁছেছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতারা। শুক্রবার (৩ জুলাই) ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই আনুষ্ঠানিকতা সরাসরি সম্প্রচার করা শুরু হলে বিশ্বনেতাদের এই আগমনের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি এক যৌথ হামলায় আলী খামেনি নিহত হন, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ এবং তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এই শোকাবহ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শুক্রবারই ইরানের রাজধানী তেহরানে এসে পৌঁছান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি, ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ আল-হালবুসি, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। এছাড়া কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি এবং উজবেক পার্লামেন্টের স্পিকার নুরিদ্দিন ইসমাইলভসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা তেহরানে পা রেখেছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, কেবল রাষ্ট্রপ্রধানরাই নন, ফিলিস্তিনি ধর্মীয় পণ্ডিত, রুশ ও ইরানি ধর্মগুরু, তুরস্ক ও লেবাননের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, ভারতীয় প্রতিনিধি দল এবং থাইল্যান্ডের শিয়া মুসলিম গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিরাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হাজির হয়েছেন। পাশাপাশি হিজবুল্লাহর সদস্য এবং বুলগেরিয়ান রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধিরা খামেনির স্মরণে বিশেষ শোকসভার আয়োজন করেছেন।
আজ শুক্রবার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে বিদায়ী অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে এবং ৬ জুলাই মূল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই এই আনুষ্ঠানিকতা ইরানের পবিত্র নগরী কোমে স্থানান্তরিত হবে। ৮ জুলাই খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ ও কারবালায়।
পরিশেষে, আগামী ৯ জুলাই শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান মাশহাদের ইমাম আলী রেজা মাজারে খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী এই ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।