ঢাকা, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, ২১ মুহররম ১৪৪৮

হরমুজে ২৪ ঘণ্টায় তিন জাহাজে হামলা, সন্দেহের তীর ইরানের দিকে

নাঈম পারভেজ অপু ,বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩:৩৭, ৭ জুলাই ২০২৬

হরমুজে ২৪ ঘণ্টায় তিন জাহাজে হামলা, সন্দেহের তীর ইরানের দিকে

ছবি :সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম সংর্কীণ জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃতীয় একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত বস্তুর হামলার শিকার হয়েছে।

বিভিন্ন সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, একটি কাতারি এলএনজি ট্যাংকারে হামলার পর আগুন ধরে যায় এবং একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনার জন্য প্রাথমিকভাবে ইরানকে দায়ী করা হলেও তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী আল রেকায়াত জাহাজটির বাম পাশে আঘাত লাগার পর সেটি বিপৎসংকেত পাঠায়। পরে ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে যাওয়ায় জাহাজটি বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে পড়ে। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ ছিলেন এবং তাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়।

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা একটি রেডিও বার্তায় জাহাজটির ক্যাপ্টেন বলেন, ‘এটি আল রেকায়াত। আমাদের জাহাজের বাম পাশে, ইঞ্জিনকক্ষের ওপরের অংশে একটি ড্রোন আঘাত করেছে। ইঞ্জিনকক্ষে আগুন লেগেছে এবং ঘন ধোঁয়ায় এলাকা ঢেকে গেছে।’

এদিকে, ওমান উপকূলের কাছে সৌদি পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকার ওয়েদিয়ান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র। তবে কী কারণে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রাথমিক তথ্য-উপাত্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে ইরান দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।

অন্যদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এলএনজি ট্যাংকারে হামলার জন্য ইরানকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে তেহরানের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় আরেকটি ট্যাংকার ড্রোনের আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটি নিরাপদে পরবর্তী বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

সংস্থাটি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, হামলায় জাহাজটির কাঠামোগত সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটি নিরাপদে তার নির্ধারিত পরবর্তী বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র আরও জানায়, ওমানের জলসীমা দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি এলপিজি ট্যাংকারকে ইরানি বাহিনী পথ পরিবর্তন করে ইরানের উপকূলঘেঁষা রুট ব্যবহার করতে নির্দেশ দেয়। 

এদিকে, জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌপরিবহন এখনও স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ ব্রোকার প্রতিষ্ঠান বিআরএস জানিয়েছে, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনিয়মিত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের ট্যাংকার বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও, সংঘাত শুরুর আগে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ১২৫টি। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা সোমবারের ২৫টি থেকে কমে মাত্র সাতটিতে নেমে আসে।

 এ অবস্থায় অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারের ভাড়াও আবার বাড়তে শুরু করেছে। শিপিং সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে একটি ট্যাংকার ভাড়া করতে দৈনিক গড় ব্যয় আবার প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

সূত্র: রয়টার্স

আরও পড়ুন