নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০:৪৯, ২ জুলাই ২০২৬
বিএনপির নেতা আবুল বাসার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আদাবরে ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে দুই বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে। এতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল বাশার বাদশা (৩৫) নামে এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন (৩৫) নামে অপর এক নেতা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাতে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
নিহত আবুল বাশার বাদশা আদাবর নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার পূর্ব দরিলা গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। বর্তমানে তিনি আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের ১৮ নম্বর বাসায় থাকতেন।
অন্যদিকে, আহত সাদ্দাম হোসেন একই ইউনিটের সভাপতি।
নিহতের ভাই সবুজ জানান, গত ২৯ জুন রাতে ব্রাজিলের খেলা দেখা নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ মীমাংসার জন্য বুধবার রাতে নবোদয় হাউজিং এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালীন আদাবর থানা বিএনপির সদস্য হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা বাশার ও সাদ্দামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাদের ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে আবুল বাশার বাদশা মারা যান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদাবর নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে আবুল বাশার বাদশা নামের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অপরজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।