ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

১২ আষাঢ় ১৪৩৩, ১০ মুহররম ১৪৪৮

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ বিবৃতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ঐকমত্য

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০:৫৮, ২৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ বিবৃতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ঐকমত্য

ছবি :সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীন তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ আরো জোরদার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা আরো গভীর করার বিষয়ে বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।

তা ছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ তিস্তা নদী সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে সব ধরনের সহযোগিতা জোরদারের কথা রয়েছে।
 
আজ শুক্রবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে প্রকাশিত বাংলাদেশ-চীনের যৌথ ঘোষণাপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়।

যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত সরকারি সফরে চীন যান। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়ন্স ২০২৬-এর ১৭তম বার্ষিক সভা (সামার দাভোস)-এও অংশ নেন।

 সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

এ ছাড়া ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং দুই দেশ বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছে।

 সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

যৌথ ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা, ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব এবং বাস্তবমুখী সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে আরো শক্তিশালী হয়েছে। দুই দেশই মনে করে, তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।

চীন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের শাসন কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে ‘বাংলাদেশ বিফোর অল’ নীতির প্রশংসা করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ মনে করে, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য নতুন উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিদ্যমান ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্ব’কে আরো উন্নীত করে ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ গড়ে তোলা হবে, যাতে দুই দেশের জনগণ আরো বেশি উপকৃত হয়।

কৌশলগত সংলাপ ও ‘২+২’ উদ্যোগ

দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের সফর ও রাজনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়, সরকার, আইনসভা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরো বাড়ানো হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে নিয়মিত কৌশলগত সংলাপ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক ‘২+২ সংলাপ’ চালুর সম্ভাবনা যাচাই করবে দুই দেশ।

‘এক চীন’ নীতিতে বাংলাদেশের পুনর্ব্যক্ত সমর্থন

যৌথ ঘোষণাপত্রে দুই দেশ একে অপরের মৌলিক জাতীয় স্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়ে দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বাংলাদেশ আবারও ‘এক চীন’ নীতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এতে বলা হয়, পৃথিবীতে একটিই চীন, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিংই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। বাংলাদেশ যেকোনো ধরনের ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে এবং জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণে চীনা সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।


অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নপথ বেছে নেওয়ার অধিকারকে সম্মান জানিয়েছে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা

দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ক্ষুদ্র প্রকল্প বাস্তবায়নেও সহযোগিতা করবে।

চীন বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষির সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্ষমতা অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিনিয়োগে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

বাংলাদেশের জন্য শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখায় চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা।

দুই দেশ যৌথভাবে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংযোগ ব্যবস্থা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে দুই দেশ।

উৎস: বাসস

আরও পড়ুন