আলমগীর মানিক, রাঙামাটি
প্রকাশ: ০০:৩৭, ১৫ জুলাই ২০২৬
ফাইল ছবি
টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে ১০০.৬০ ফুট (মিন সি লেভেল)-এ পৌঁছেছে। পানি বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাবে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়ে ২০৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ উৎপাদন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি উৎপাদন ইউনিটই সচল রয়েছে। এর মধ্যে ১, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটি ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ১৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে মোট ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, চলমান ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে এখনও ব্যাপক হারে পানি প্রবেশ করছে। ফলে জলাধারে পর্যাপ্ত পানি মজুত থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং হ্রদে পানির প্রবাহ একইভাবে বজায় থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তারা আরও জানান, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্ষা মৌসুমে হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এদিকে, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সর্বোচ্চ সক্ষমতার কাছাকাছি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাধারে পানির বর্তমান প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।