আল-মামুন,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯:৫০, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
ফটিকছড়িতে বন বিভাগের সংরক্ষিত ভূমির পাহাড় কেটে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে সংগঠিত গণ-হামলায় সহকারি বন সংরক্ষকসহ তিনজন আহত।
মানিকছড়ি অংশে এক ঘন্টার সড়ক অবরোধ করে 'খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম' সড়কে যান চলাচলে ব্যাঘাত করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা থেকে আগত পীর শাহ আলম নঈমী হুজুর বছর কয়েক ধরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী বন বিভাগের সংরক্ষিত ভূমিতে পাহাড় কেটে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারী ২০২৬) সকাল নয়টার দিকে ধলিয়াছড়ি এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে নঈমী হুজুরের অনুসারীরা এলাকায় মসজিদে হামলার গুজব ছড়িয়ে দেন। এতে সাধারণ জনগণ ধর্মীয় অনুভুতির বিষয় ভেবে অভিযান পরিচালনাকারী দলের ওপর হামলা চালান।
এসময় সহকারি বন সংরক্ষক আবরারুর রহমান, নারায়ণহাট বনবিটের কর্মচারি মাহফুজ আলী, ফরেস্ট রেঞ্জার বাচ্চু মিয়া এবং স্কেভেটর চালক বিপ্লব গুরুতর আহত হন। তাঁরা প্রাণভয়ে পালিয়ে মূল সড়কে উঠলে সেনাবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা হাসপাতালে প্রেরণ করে।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তা ডা. মনোজ চৌধুরী জানান, আহতদের অবস্থা বিবেচনা করে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
সড়ক অবরোধকারী রহিমা বেগম, মনসুর আলী ও মেহেরুননিসা জানান, দরিদ্র বাসিন্দাদের জন্য বছর কয়েক মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বনবিভাগ কোন আলোচনা ছাড়াই এটি উচ্ছেদ করেছে। আমরা এর প্রতিবাদে সংক্ষুব্ধ।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, দুষ্কৃতিকারীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি এবং মানিকছড়ি'র প্রশাসন সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশের সহায়তায় নিয়ে সাড়ে ১২টা নাগাদ সড়ক থেকে জনগণকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।