ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:৪৪, ৩ মার্চ ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
বিরোধী দল হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সরকারি দল বিএনপি। জাতীয় সংসদের সম্মানের ওই পদের আলোচনায় উঠে এসেছে জামায়াতের তিন নেতার নাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামায়াতের একজন নায়েবে আমির এবং দুজন আইনজীবী সংসদ-সদস্যের নাম এখন আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। যদিও এ প্রশ্নে দলীয়ভাবে জামায়াত এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম।
বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের বিষয়টি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরপরই আলোচনায় আসে। কারণ জুলাই সনদের অঙ্গীকারের মধ্যে বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কয়েক সপ্তাহ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না থাকলেও সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিষয়টি সামনে আনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ঠিক করার জন্য প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সরকারের পক্ষ থেকে অফার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসাবে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা এখন থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে চাই। সেজন্য আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিক ও সাক্ষাতে অফার করেছি যে, তারা যেন ডেপুটি স্পিকার ঠিক করেন এবং স্পিকার নির্বাচনের দিনই যেন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারে।
তাহলে কি এবারই উচ্চকক্ষ গঠিত হচ্ছে? জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটা আলাপ-আলোচনার বিষয়। তবে আমরা ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার বিষয়টি এখন অফার করতেই পারি। যদিও চাইলে সরকারি দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দুটোই নিতে পারে। তবে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার একজন বিরোধী দল থেকে হবেন। সেটা আমরা এখনই ‘গুড উইল’ হিসাবে অফার করেছি।
সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম যুগান্তরকে বলেন, ডেপুটি স্পিকারের পদের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, মোবাইল সাংবাদিকরা কারও কারও নাম উল্লেখ করে নিউজ করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা পোস্ট দিচ্ছে। এর কোনোটাই সঠিক নয়। আমরা শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাব।
তবে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জামায়াতের ভেতরে ও বাইরে যাদের নাম ডেপুটি স্পিকার হিসাবে আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের নাম। পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার মোমেন একজন মেধাবী আইনজীবী হিসাবেও পরিচিত। বাবা নিজামীর যুদ্ধাপরাধের মামলার পাশাপাশি মওলানা আব্দুস সুবহানের মামলায়ও ডিফেন্স আইনজীবী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ভিআইপি আসন হিসাবে পাবনা-১ থেকে নির্বাচিত হয়ে সর্বশেষ ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন শামসুল হক টুকু। একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে তার আগে মন্ত্রী ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের । সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ ওই আসন থেকে নির্বাচিত হিসাবে মোমেনকেই জামায়াতের পছন্দের তালিকায় ১ নম্বরে রাখা হয়েছে।
সূত্রমতে, মোমেন ছাড়াও জামায়াতের নায়েবে আমির রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচিত অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নামও সম্ভাব্য ডেপুটি স্পিকার হিসাবে আলোচনায় আছে। তিনি দলের সিনিয়র নেতা এবং ১৯৮৬ সালের সংসদে জামায়াত সংসদীয় দলের নেতা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমানের নামও বলছেন অনেকে। সুপ্রিমকোর্টের মেধাবী আইনজীবী আরমান নিজের পিতা মীর কাসেম আলীর মামলাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ডিফেন্স আইনজীবী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে প্রায় ৯ বছরে গুম হয়ে আয়না ঘরে থাকায় তার প্রতি দলের অনেকের সহানুভূতি রয়েছে।