প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০:১৯, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নিজের বাড়িতে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের সুবিধায় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ২০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বেড়িবাঁধ বেষ্টনীর এসব মেহগনি গাছ কাটার পর তা জব্দ করে মামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলার মিঠামইন সদরের কামালপুর এলাকায়। নদীভাঙন রোধে রোপণকৃত এসব গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নদীভাঙন ঠেকাতে এই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো এলাকার পরিবেশ এবং বেড়িবাঁধ বেষ্টনী রক্ষায় কাজ করছিল। কিন্তু ওই বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে এসব গাছ বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। বাড়ি থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য গত ৫ আগস্টের পর থেকে এক এক করে গাছগুলো কাটা শুরু করেন তিনি। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বাজার মূল্যের এসব গাছ বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে গুঁড়ি থেকে কেটে ফেলা হয়।
এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেন জাহিদুল আলম। তিনি বলেন, এসব গাছ আমি কাটব কেন? এ জায়গা এবং গাছগুলো সরকারি নয়। প্রত্যেক মালিকরা নিজ নিজ জায়গা থেকে তাদের গাছ কেটে নিয়ে গেছেন। এছাড়া এ বেড়িবাঁধও সরকারি না, অধিগ্রহণকৃত জমিতেও না।
এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলার বনবিভাগ কর্মকর্তা জুলফিকার জয় বলেন, বেড়িবাঁধে কেটে ফেলা গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় খোয়াব নামে একটি এনজিও সংস্থা রোপণ করেছিল। বিষয়টি উপকারভোগী স্থানীয় দুস্থ নারী ও এলজিইডি দেখাশোনার কাজ করত।
মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে এ বেড়িবাঁধ বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছিল। সে সময় গাছগুলো রোপণ করা হয়। গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানার পর স’মিল থেকে গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরেরও প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। র