আলমগীর মানিক, রাঙামাটি
প্রকাশ: ২৩:৪১, ১ আগস্ট ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
রাঙামাটিতে এক কৃষকের ফলন্ত পেঁপে বাগান কেটে ধ্বংস করার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, চাঁদার দাবিতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপা সিএনজি স্টেশন চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে পিসিসিপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন।
সমাবেশে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, সহ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকার ব্রাহ্মণ টিলায় কৃষক খলিলুর রহমান দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে একটি বাণিজ্যিক পেঁপে বাগান গড়ে তুলেছিলেন। তাদের দাবি, জেএসএসের কথিত অর্থসংগ্রাহক (কালেক্টর) শান্তি রঞ্জন চাকমা কৃষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা বাগানে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফলন্ত পেঁপে গাছ কেটে ফেলে।
বক্তাদের ভাষ্য, এতে কয়েক বছরের শ্রম ও বিনিয়োগ মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায় এবং কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ক্ষতির বর্ণনা দেন কৃষক খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেওয়া জমিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পেঁপে গাছ রোপণ করেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তার অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি তিনি প্রাণনাশের হুমকিও পাচ্ছেন বলে দাবি করেন। ঘটনার বিচার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে আরও অভিযোগ করা হয়, লংগদু উপজেলার ৪ নম্বর বগাচত্বর ইউনিয়নের শিবেরআগা এলাকার পরিত্যক্ত পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন একটি দোকানঘরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— পেঁপে বাগান ধ্বংসের ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খলিলুর রহমানকে উপযুক্ত সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রদান, লংগদুর শিবেরআগা এলাকায় পুনরায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং পার্বত্যাঞ্চলে চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাহাড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।
এদিকে পেঁপে বাগান ধ্বংসের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চলছে জানিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ঘটনায় ভূক্তভোগি কৃষক থানা শুক্রবার রাতেই মামলা দায়ের করেছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।