ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১:৩০, ১০ জুলাই ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লায় একটি তিনতলা ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে হঠাৎ বিকট শব্দে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ধসে পড়ার পর ভবনটি একদিকে হেলে যাওয়ায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার পর আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন ভবনের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজউক বা সিটি করপোরেশনের কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে আসেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আজিজ মহল্লার ওই এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে তিনতলা ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে এবং পুরো ভবনটি একদিকে হেলে যায়। ভবনের ভেতরে থাকা প্রায় ১২টি পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন এবং যে যেভাবে পেরেছেন, প্রাণহাতে নিয়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন।
এলাকাবাসীর দাবি, তিনতলা এই ভবনটি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছরের পুরোনো। এটি যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল, তা ভবনটির জরাজীর্ণ দশা দেখলেই বোঝা যায়। ভবনের বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে তারা বারবার বাড়ির মালিককে সতর্ক করেছিলেন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়িওয়ালা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলেন।
ভবন থেকে প্রাণহাতে নেমে আসা এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকালে বিকট শব্দ হওয়ার পর মনে হইছে ভূমিকম্প হচ্ছে। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে কোনোমতে সিঁড়ি দিয়ে নাইমা আসছি। যে কোনো সময় পুরো বিল্ডিংটা ধইসা পড়তে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সকাল থেকে সন্ধ্যা হয়ে গেল, রাজউক বা সিটি করপোরেশনের একটা লোকও এই ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিংটা দেখতে আসল না! তারা কি বড় কোনো লাশের মিছিলের অপেক্ষা করতেছে?’
আজিজ মহল্লা এলাকার আরেক প্রতিবেশী প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিল্ডিংটা যে ৬০-৭০ বছরের পুরোনো আর ঝুঁকিপূর্ণ, তা রাজউক বা গণপূর্তের জানার কথা। অথচ তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নাই। বিকেলে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ আসছিল, কিন্তু ওনারাও একটু দেখে চলে গেছেন। এখন আমরা আতঙ্কে আছি, এই ভবন যদি পাশের বিল্ডিংয়ের ওপর ভেঙে পড়ে, তবে বহু মানুষের জীবন যাবে।’
দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি এখনও পুরোপুরি খালি বা সিলগালা করা হয়নি। ফলে আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মাঝেও আতঙ্ক কাটছে না।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে রাজউক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই ভবনের কারিগরি পরীক্ষা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা। একই সঙ্গে যে কোনো বড় বিপর্যয় এড়াতে ভবনের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলার তাগিদ দিয়েছেন তারা।