প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০:৫৪, ২৭ জুন ২০২৬
বন্দুক যুদ্ধের পর উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ। ছবি :সংগৃহীত
সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘দুলাভাই’ বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের বন্দুক যুদ্ধ হয়েছে। এতে এক দস্যু নিহত ও বাহিনীটির প্রধানসহ দুই দস্যু আটক এবং বেশকিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘দুলাভাই’ বাহিনীর সদস্যরা বনের গভীরে অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে থেকে শুরু করে টানা দুইদিন ধরে সুন্দরবনে বিশেষ অভিযান চালায় কোস্টগার্ডের কয়েকটি টিম। অভিযানকালে কোস্ট গার্ড সদস্যরা দস্যুদের ব্যবহৃত দুইটি ট্রলার থামানোর সংকেত দেয়। সংকেত অমান্য করে দস্যুরা কোস্টগার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। উভয়ের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের এক পর্যায়ে দস্যুদের একটি ট্রলারে আগুন ধরে যায় ও অপরটি ডুবে যায়। বন্দুক যুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত ‘দুলাভাই’ বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ও তার সহযোগী শওকত সরদারকে আটক করা হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাহিনীটির প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া দস্যুদের ধরতে কোস্টগার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে দস্যু ইসরাফিল হাওলাদারকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এছাড়া, আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা গুলি, তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইলফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
আটক দস্যু রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত দস্যু শওকত সরদার (৫৫) খুলনা জেলার কয়রা থানার এবং ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা।
আটক দস্যু ও উদ্ধার করা অস্ত্র-গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।