ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০০:২৭, ২৫ জুলাই ২০২৬
ফাইল ছবি
রাজধানীর ভাটারা এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিন সদস্য দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় শিশুসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
তারা হলেন: মো. শাহিন (২৪) ও তার আট বছর বয়সি ভাগনি হাফসা আক্তার। এ ঘটনায় ৪৫ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ফাহিমা আক্তার নামে আরও একজন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হাফসা এবং শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে শাহিনের মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শাহিনের শরীরের ৫০ শতাংশ এবং শিশু হাফসার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফাহিমার শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তার অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এর আগে গত মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে ভাটারার নতুন বাজার ১০০ ফুট সড়ক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন জানান, শাহিন পেশায় একটি কাপড়ের শোরুমের কর্মচারী। ওই ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন তারা। মঙ্গলবার ভোরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। শব্দ শুনে তারা দ্রুত সেখানে গিয়ে তিনজনকে দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান এবং উদ্ধার করে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করান। ফ্ল্যাটটিতে তিতাস গ্যাসের সংযোগ রয়েছে উল্লেখ করে জসিম বলেন, রাতে লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোরে রান্নার জন্য আগুন জ্বালানো বা অন্য কোনো স্ফুলিঙ্গ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে।
এদিকে ঘটনার পেছনে বাড়িওয়ালার গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন দগ্ধ ফাহিমার চাচি শামীমা সুলতানা। তিনি জানান, প্রায় এক মাস আগে পরিবারটি নতুন বাজারের ওই বাসায় ভাড়া ওঠে। ওঠার পরপরই গ্যাসের গন্ধ পেয়ে বাড়িওয়ালাকে জানানো হলে তিনি পাইপ মেরামত করে দেন। কিন্তু এরপরও একাধিকবার পাইপ লিক হলেও বাড়িওয়ালা তা স্থায়ীভাবে ঠিক করার উদ্যোগ নেননি। বাড়িওয়ালার অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তার।