ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩:১৫, ৬ জুলাই ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশে ছানির অভাবে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়া প্রায় ১০ লাখ মানুষের অন্ধত্ব দূর করতে দেশব্যাপী বিনামূল্যে ও সুলভ মূল্যে ছানি অপারেশনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বর মাসে অ্যান্টিগায় বিশ্বের প্রথম ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’ (বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন)-এ আয়োজক দেশ অ্যান্টিগার পাশাপাশি বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘কো-হোস্ট’ হিসেবে ভূমিকা রাখবে, যেটিতে চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে অন্ধত্ব প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএপিবি (IAPB)-এর প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ডের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে প্রায় ১০ লাখ মানুষ চোখের ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কিংবা অন্ধত্ব বরণ করে আছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই উদ্যোগটি নিয়েছেন। এই ১০ লাখ মানুষের জন্য আমরা দেশব্যাপী সুলভ মূল্যে এবং বিনামূল্যে ছানির অপারেশনের ব্যবস্থা করার বড় কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও খরচ কমাতে ইতিমধ্যে এই বাজেটে চোখের ছানি অপারেশনের পর যে লেন্সটি দেওয়া হয়, তার ওপর থেকে কর (ট্যাক্স) কমিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে চোখের ছানি অপারেশনের খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে যাবে, যা দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে।
নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল সামিটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে এই প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশ কো-হোস্ট হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত ইতিবাচক, তবে একই সময়ে কমনওয়েলথ রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক থাকায় তিনি যদি কোনো কারণে যেতে না-ও পারেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সেখানে কো-হোস্টের দায়িত্ব পালন করবে।
পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের চোখের সুরক্ষায় সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন ‘গ্রাম-গঞ্জের অনেক শিশু চশমা ও চোখ পরীক্ষার অভাবে সঠিকভাবে দেখতে পায় না, যা তাদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আইএপিবি-কে শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও চশমা বিতরণে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটিও আমাদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, লেন্সের দাম কমানো এবং বিনামূল্যে ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশনের এই সমন্বিত উদ্যোগ ও বৈশ্বিক সংস্থার সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্ব দেশের চক্ষু স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন আনবে।
আন্তর্জাতিক চক্ষু সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম IAPB-এর প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড বলেন, ২ নভেম্বর অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিতব্য এই গ্লোবাল সামিট বিশ্বনেতাদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হবেন।
বাংলাদেশকে বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে পিটার হল্যান্ড বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে চোখের দৃষ্টি সুরক্ষায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। জাতিসংঘে (UN) দৃষ্টিশক্তি বিষয়ক প্রথম ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি স্পন্সর বা উত্থাপন করেছিল বাংলাদেশ। দশকের পর দশক ধরে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংশ্লিষ্টদের দূরদর্শী নেতৃত্বে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে চক্ষু স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
আইএপিবি-র প্রধান নির্বাহী জানান, বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার আমূল পরিবর্তনে সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা । বিশেষ করে দেশের ছানি অপারেশন সেবার মান উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে চশমা পৌঁছে দেওয়ার মতো প্রোগ্রামগুলোতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চলমান রয়েছে।
আগামী নভেম্বরের গ্লোবাল সামিটে বাংলাদেশের এই জোরালো অংশীদারিত্ব এবং সহ-আয়োজকের ভূমিকা বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পিটার হল্যান্ড।
উৎস: বাসস