স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:৩২, ৬ জুলাই ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
২০০০ সালের পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৫০'র কম রান ডিফেন্ড হয়েছে মাত্র ৬ বার। আজ (৬ জুলাই) বাংলাদেশকে হারিয়ে সপ্তমবার এমন কীর্তি গড়ল জিম্বাবুয়ে। হারারেতে টাইগারদের রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে রিচার্ড এনগারাভার দল।
গত শতাব্দীর '৭০ এর দশকে ওয়ানডে ক্রিকেটের আবির্ভাব হয়। শুরুর কয়েক দশকে এই ফরম্যাটে বোলারদের আধিপত্য ছিল বেশ। তখনকার সময়ে ২০০'র কাছাকাছি রানই ছিল জয় পাওয়ার মতো সংগ্রহ। তবে সময়ের পরিক্রমায় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মতো ছোট ফরম্যাটের উদ্ভব হয়। এতে ব্যাটারদের মানসিকতায় যেমন পরিবর্তন আসে, তেমনি পরিবর্তন আসে আধিপত্যেও।
টি-টোয়েন্টি আসার পর ব্যাটারদের ওয়ানডে ব্যাটিংয়েরও ধরন বদলেছে। একসময় যে ফরম্যাটে ২০০ রানও ডিফেন্ড করার মতো সংগ্রহ ছিল, এখন সেই ফরম্যাটে ৩০০-৩৫০ রান করেও হারের শঙ্কা থাকে। ১৫০-২০০ রানের তো আর তেমন পাত্তাই নেই।
এমন একটা সময় টাইগারদের এই লজ্জা উপহার দিল জিম্বাবুয়ে, যখন ওয়ানডেতে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম ভালো সময় পার করছিল টাইগাররা। জিম্বাবুয়ে সফরের আগে ওয়ানডেতে টানা চার সিরিজে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এই সিরিজগুলোতে মেহেদী মিরাজরা হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। উড়তে থাকা এই বাংলাদেশ এবার হারল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, তাও ১৪১ রান করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে।
জিম্বাবুয়ের ১৪১ রানের জবাবে ১২৫ রানে থেমেছে বাংলাদেশ। হারারের আজকের পিচটা ব্যাটারদের জন্য বেশ কঠিনই ছিল। স্কোরকার্ডের হাল দেখে যে কেউ এটা সহজেই আন্দাজ করতে পারবেন। অসম বাউন্সের কারণে বোলাররা অনেক সুবিধা পেয়েছেন, বিশেষ করে পেসাররা। তার প্রতিফলন দেখা গেছে পারফরম্যান্সেও, ম্যাচের ২০ উইকেটের মধ্যে ১৯টিই নিয়েছেন পেসাররা।
স্বাভাবিকভাবেই স্বাগতিক হওয়ায় পিচের এই গতিবিধি ভালো বুঝতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে। ফলে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলা সহজ হয়েছে তাদের জন্য। তবে এটাই কি বাংলাদেশের হারের একমাত্র কারণ? না, গেম সেন্স এবং অভিজ্ঞতার কাছে হেরেছে বাংলাদেশ।
১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ব্যাটাররা। দলের প্রথম চার ব্যাটারই ক্যাচ দিয়েছেন বাউন্ডারিতে। যেখানে লক্ষ্য ১৪২ এবং পিচ বোলিং সহায়ক; সেখানে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হওয়ার মাশুল দিয়েছে বাংলাদেশ। আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও। অথচ উইকেট থিতু হয়ে দেখে শুনে খেলে সহজেই এই লক্ষ্য পাড়ি দেয়া যেতো। চতুর্থ উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে সেটা প্রমাণও করেছেন তাওহীদ হৃদয় এবং নুরুল হাসান সোহান।
টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর হৃদয় এবং সোহান হাল ধরলেও মিডল অর্ডার এবং লোয়ার অর্ডারের আর কোনো ব্যাটার তেমন রানের দেখা পাননি। শেষ ৬ ব্যাটার মিলে করেছেন ৩১ রান। প্রায় সবাই-ই আউত হয়েছেন শট খেলতে গিয়ে। একটু ধৈর্যশীলতার প্রমাণ দিতে পারলে হয়তো ফলাফল ভিন্নও হতে পারতো।
অল্প পুঁজি নিয়ে মাঠে জিম্বাবুয়ে সর্বোচ্চটা দিয়েছে। পুরো ফিল্ডিংয়ে তেমন কোনো ক্যাচ মিস বা ফিল্ডিং মিস ছিল না স্বাগতিকদের। কয়েকটি ক্যাচও ছিল বেশ দুর্দান্ত। এসব ছোট ছোট অবদান দলটির জয়ে বড় অবদান রেখেছে।
আরেকটি বড় কারণ হলো অধিনায়কত্ব। নাহিদ রানার দাপুটে বোলিংয়ে ৭০ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই সময় নাহিদের আরও ৩ ওভার থাকলেও তাকে সরিয়ে বোলিংয়ে আনা হয় রিশাদ হোসেনকে। অন্য প্রান্ত থেকে বোলিংয়ে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পেসারদের স্বর্গরাজ্যে স্পিনার এনে জিম্বাবুয়ের টেইলেন্ডার ব্যাটারদের হাত খোলার সুযোগ করে দেন মিরাজ। ওই জুটিতে ৬৩ রান করে জিম্বাবুয়ে। আর ম্যাচ শেষে সেই জুটিই হার-জিতের মধ্যে ব্যবধান হয়ে দাঁড়ায়। v