স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৫০, ৫ জুলাই ২০২৬
কেপ ভার্দে ফুটবল দল। ছবি :সংগৃহীত
বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণ, অথচ বিদায় নিয়েও জয় করে নিয়েছে ফুটবল বিশ্বের হৃদয়। ছোট্ট আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে এবার শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, আর্থিক অর্জনেও ইতিহাস গড়েছে। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের দেশটি বিশ্বকাপ থেকে অন্তত ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫০ কোটির টাকারও বেশি প্রাইজমানি নিয়ে ফিরছে। যে অর্থ ভবিষ্যতে দেশটির ফুটবল অবকাঠামো ও সামগ্রিক ক্রীড়া উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে নিজেদের আগমনী বার্তা দেয় কেপ ভার্দে। এরপর শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ২-২ গোলে ড্র করে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য সমতায় শেষ করে অপরাজিত থেকেই নিশ্চিত করে শেষ ৩২-এর টিকিট।
নকআউটে প্রতিপক্ষ ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কাগজে-কলমে ম্যাচটি ছিল একতরফা হওয়ার কথা। কিন্তু মাঠে ভিন্ন গল্প লিখেছিল কেপ ভার্দে। দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুইবারই সমতায় ফিরে আসে তারা। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে হেরে শেষ হয় তাদের অবিশ্বাস্য যাত্রা।
মাঠের লড়াই শেষ হলেও প্রাপ্তির খাতা রয়ে গেছে সমৃদ্ধ। ফিফা এবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপের জন্য মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য প্রতিটি দল পাবে ১০ মিলিয়ন ডলার। প্রস্তুতি, ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ ব্যয়ের জন্য দেওয়া হবে আরও ২.৫ মিলিয়ন ডলার।
এর পাশাপাশি কেপ ভার্দের মতো ছোট ফুটবল দেশগুলোর জন্য রয়েছে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা। যাতায়াত, টিকিট ও সাংগঠনিক ব্যয় মেটাতে তারা পাবে ১৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি সহায়তা। এছাড়া শেষ ৩২-এ ওঠার পুরস্কার হিসেবে যোগ হবে আরও ১১ মিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অভিষেক কেবল একটি সফল ফুটবল অভিযান নয়, এটি দেশটির ফুটবল ও অর্থনীতির জন্যও এক নতুন দিগন্তের সূচনা। ফুটবল ফেডারেশনের হাতে যাওয়া এই অর্থ ভবিষ্যতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক দল গঠন, কোচিং এবং প্রতিভা বিকাশে বিনিয়োগ করা হলে কেপ ভার্দের এই রূপকথা আরও দীর্ঘ হতে পারে।