ঢাকা, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

২১ আষাঢ় ১৪৩৩, ১৯ মুহররম ১৪৪৮

এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে স্বাক্ষর নেওয়া সেই লিটু গ্রেফতার

প্র্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২:০২, ৫ জুলাই ২০২৬

এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে স্বাক্ষর নেওয়া সেই লিটু গ্রেফতার

ছবি :সংগৃহীত

বরিশালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান 'অগ্রণী হাউজিং লিমিটেড'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর, অন্ডকোষ চেপে ধরা এবং জোরপূর্বক চেক ও স্টাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 রোববার (৫ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে নগরীর সদর রোডের ‘টপ টেন’ নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) প্রধান আশিক সাঈদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করেন, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর সদর রোডে তার অগ্রণী হাউজিং অফিসে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। তার ব্যবসায়িক সাবেক পার্টনার লিটু একসময় আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। লিটুর বিনিয়োগের বিপরীতে তাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো টাকা পাওনা নেই মর্মে লিটু অঙ্গীকারনামাও দিয়েছিলেন। তারপরও লিটু দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।

আব্দুল আজিজ জানান, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর রোডের অফিস কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করে লিটুসহ তার ক্যাডার বাহিনী। প্রথমে মারধরের পর একপর্যায়ে তার অন্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি ব্ল্যাংক (সাদা) চেক এবং দুটি সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই তিনি ব্যাংকে অভিযোগ দিয়ে রাখায় আসামিরা টাকা তুলতে পারেনি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তিনি আদালতে একটি নালিশী মামলা দায়ের করলে আদালত সেটি এফআইআরভুক্ত করতে কোতোয়ালী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। ঘটনার সত্যতা সবাইকে জানাতে শনিবার রাতে আব্দুল আজিজ নিজেই তার অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু সরাসরি আজিজকে মারধর করছেন। একপর্যায়ে তার অন্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্টাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। মারধরের সময় আজিজ ‘বাচ্চু-বাচ্চু’ বলে চিৎকার করলে এক ব্যক্তি কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করেন, কিন্তু লিটুর সঙ্গীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেক ও স্টাম্প হস্তান্তরের ছবিও তোলে তারা।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত লিটু কাটপট্টি সড়কের বাসিন্দা এবং তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। নগরীতে লিটু যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে গুঞ্জন ছড়ালে রোববার দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা ও মহানগর যুবদল।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম এবং মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন স্পষ্ট জানান, লিটু যুবদলের জেলা, মহানগর বা ওয়ার্ড, কোনো কমিটির সদস্য নন। তিনি কখনোই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কেউ যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করতে পারে, সেজন্য তারা অবিলম্বে লিটুর গ্রেফতারের দাবি জানান। এই সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টাখানেরকের মাথায় পুলিশ লিটুকে গ্রেফতার করে।

অপরদিকে, ঘটনার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত লিটু সময় সংবাদের কাছে দাবি করেন, ওইদিন যারা গিয়েছিলেন তারা সকলে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আজিজ সকলের টাকা আত্মাসাত করেছেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন