ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১:৪৩, ১ জুলাই ২০২৬
ফাইল ছবি
রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ১০ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৬ সালের ১ জুলাই সংঘটিত এই হামলা দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাগুলোর একটি। সেই ভয়াল রাতে বিদেশিসহ মোট ২২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এছাড়া হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও অনেকে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে দুটি ধাপ শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর হাইকোর্ট সেই রায় পরিবর্তন করে সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। বর্তমানে এই রায়ের বিরুদ্ধে ছয় দণ্ডিত আসামির করা আপিলের অনুমতির আবেদন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, স্বীকারোক্তি, ফরেনসিক, ব্যালিস্টিক, ডিএনএ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীনের উগ্র অংশ ‘নব্য জেএমবি’ পরিচয়ে এই হামলা চালায়। হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচ জঙ্গি পরে সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হয়।
সেদিন ছিল শুক্রবার (১ জুলাই, ২০১৬)। ইফতারের পরপরই অস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েকজন তরুণ হলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে অতিথিদের জিম্মি করে। খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব, সোয়াট, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন।
প্রথম দফায় জিম্মিদের উদ্ধারের চেষ্টা চালালে হামলাকারীদের হামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ও বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন।
পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে শুরু হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। সাঁজোয়া যান দিয়ে ভবনের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন কমান্ডো সদস্যরা। অভিযান শেষে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ২০ জিম্মির মরদেহ। তাদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় এবং ৩ জন বাংলাদেশি। দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ওই হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২২ জন।
এক দশক পেরিয়ে গেলেও হলি আর্টিজানের সেই বিভীষিকাময় রাত আজও দেশের মানুষের মনে গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে।