ঢাকা, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৬ মুহররম ১৪৪৮

পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনের আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১:৩৭, ১২ জুলাই ২০২৬

পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনের আশঙ্কা

প্রতীকী ছবি

আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি এবং প্রয়োগের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। দাবি না মানলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। 

 রোববার (১২ জুলাই)  বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আব্দুল মালেক এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নতুন জাতীয় পে-স্কেলের পরিবর্তে অন্য কোনো সাময়িক সুবিধা দিয়ে মূল দাবিকে আড়াল করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আবদুল মালেক বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। এখন আর আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটানো হোক।

তিনি আরও বলেন, 'সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে আইএমএফের শর্ত বা অর্থনৈতিক চাপের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে যদি কোনো বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে সরকার যেন স্পষ্ট অবস্থান জানায়। দীর্ঘসূত্রতার কোনো অজুহাত কর্মচারীরা আর মেনে নিতে প্রস্তুত নন।'

সংগঠনের সদস্য সচিব মো. আশিকুল ইসলাম বলেন, 'রেশন সুবিধা প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই নবম জাতীয় পে-স্কেলের বিকল্প নয়। কর্মচারীদের প্রধান দাবি দ্রুত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা সরকারকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় দিতে চাই। এর মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি সারাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনসম্মত, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করবে। আমাদের লক্ষ্য সংঘাত নয়, বরং ন্যায্য দাবি আদায়।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত একটি বৈষম্যহীন ও সময়োপযোগী জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন