ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, ০৮ সফর ১৪৪৮

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩:৫৮, ২৪ জুলাই ২০২৬

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি

ফাইল ছবি

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় অবশেষে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সে কারণেই সর্বত্র এখন  আলোচনা, কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দলের তিন শীর্ষ নেতা ও একজন আমলা। তাদের মধ্য থেকেই একজনকে বেছে নিতে পারে সরকার। কারণ যোগ্যতার পাশাপাশি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হিসেবে তাদের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। তবে সবাইকে অবাক করে এর বাইরেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাউকে বেছে নেওয়া হতে পারে বলে দাবি করছেন সরকারি দলের কেউ কেউ।

আলোচনায় যারা

দুদিন ধরে দেশব্যাপী আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে থেকেই আলোচনায় আসে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতির নাম।

এর মধ্যে ঘুরেফিরে চারটি নাম সামনে আসছে। তারা হলেন—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

বিএনপি ও সরকারের একাধিক সূত্র থেকে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে— যদিও এ নিয়ে কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

বিএনপি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির হাইকমান্ড মনে করে, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য কঠিন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দলের ক্লিন ইমেজধারী ও সিনিয়র নেতাদের প্রাধান্য দিতে চায় দলটি। আর আমলাদের মধ্যে কেউ হলে সেখানেও বিএনপির একান্ত অনুগত কাউকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া

৯০ দশকের আগে সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিধান ছিল। তবে ১৯৯১ সালে সংসদীয়-ব্যবস্থা চালুর পর আগের পদ্ধতি বাতিল হয়ে যায়। তখন থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন এমপিদের পরোক্ষ ভোটে। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত হয়ে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। এ ক্ষেত্রে কেউ দুইবারের বেশি এ পদে থাকতে পারবেন না।

মেয়াদ শেষ, পদত্যাগ বা অভিসংশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে ৩৫ বছরের বেশি ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মতো যোগ্য হতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। আর বিপক্ষে প্রার্থী না থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। তফসিল ঘোষণার পর সংসদ অধিবেশন চলাকালীন এই নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সময়ে যদি অধিবেশন না থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভোটগ্রহণের কমপক্ষে সাত দিন আগে অধিবেশন আহ্বান করবেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন