মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা(খুলনা)প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০০:৫৮, ১৯ জুন ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় কয়েকদিন ধরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের কাছে পরিস্থিতি যেন আলো-আঁধার ও চোর-পুলিশ খেলায় পরিণত হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, বৃদ্ধ ও শিশুরা। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতরে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ফার্মেসিগুলোতে ফ্রিজে সংরক্ষিত ওষুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আইসক্রিম ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম ক্ষতির মুখে। কয়েকজন মুদি দোকানদার জানান, তারা ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার আইসক্রিম মজুত রেখেছেন।
দিনে রাতে তীব্র তাপদাহে ভয়াবহ লোডশেডিং স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছে না মানুষ। আবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এসব পণ্য বিক্রি করা যাচ্ছে না, বরং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ফটোকপি ও প্রিন্টিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রিন্ট ও ফটোকপি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা দুর্ভোগে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দিনে ও রাতে অসংখ্যবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে এবং জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি। এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ চিহ্নিত করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পাইকগাছা উপজেলা জোনাল অফিসার ডিজিএম অঞ্জন কুমার সরকার জানান, চাহিদার থেকে সরবরাহ কম তাই লোডশেডিং হচ্ছে। খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটিয়ে স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।