ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

১২ শ্রাবণ ১৪৩৩, ১১ সফর ১৪৪৮

‘আইনি ভিত্তি নেই বৈষম্যমূলক কোটার’ 

পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি থেকে

প্রকাশ: ০১:১৮, ২৮ জুলাই ২০২৬

পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ছবি:বাংলার চোখ

পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগসমূহে প্রচলিত বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা নীতির ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, রাঙামাটি জেলা। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপাস্থ আয়োজন রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে সংগঠনের নেতারা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোটা বিরোধী ঐক্যজোট রাঙামাটি জেলার উপদেষ্টা মো. কামাল উদ্দিন, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মজুমদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম রুবেল, সদস্য মো. ইউসুফ আলীসহ সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগে ৬৭ শতাংশ উপজাতি এবং ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়ে আসছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কোটা ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক এবং এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

তারা বলেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে নির্দিষ্ট কোনো কোটা নির্ধারণ করা হয়নি। বরং সমযোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধা এবং ৭ শতাংশ কোটা নীতিই পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগে অনুসরণ করা উচিত।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, মেধাভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ থেকে কোনো প্রার্থীকে বঞ্চিত করা হলে তা শুধু বৈষম্যই নয়, বরং যোগ্যতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার নীতিরও পরিপন্থী। তাই পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত সব বিভাগের নিয়োগে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন করা; নিয়োগ পরীক্ষার জন্য জনপ্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে মানসম্মত প্রশ্নপত্র প্রণয়ন; প্রশ্নপত্র জেলা প্রশাসকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সরকারি ট্রেজারিতে সংরক্ষণ এবং পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা।

এছাড়া উত্তরপত্র মূল্যায়ন জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করে নিরপেক্ষ ফলাফল প্রকাশ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব নীতিমালা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর, নাম, পিতার নাম ও বিস্তারিত ঠিকানা প্রকাশের দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যার পর পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগে প্রচলিত বৈষম্যমূলক কোটার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তাই দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা নিয়োগ পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে।

তারা আরও বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না হলে পাহাড়ের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়বে। এ কারণে নিয়োগের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগের ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগে কোনো ধরনের বৈষম্য, স্বজনপ্রীতি বা গোপনীয়তার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

এ সময় তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইনগত ব্যাখ্যার পরও যদি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় টালবাহানা বা কালক্ষেপণ করে, তাহলে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট পাহাড়ের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন