ঢাকা, শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

৩ মাঘ ১৪৩২, ২৮ রজব ১৪৪৭

নাগরিক শোকসভায় প্রফেসর এফএম সিদ্দিক

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা নিয়ে তদন্তের দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮:২১, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা নিয়ে তদন্তের দাবি

ছবি :সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা করে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। উনার চিকিৎসায় অবহেলার সমস্ত প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। ওই সময়ের সরকার কর্তৃক নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান প্রফেসর এফএম সিদ্দিক।

শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 

এফএম সিদ্দিক বলেন, আমি দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি সময় ধরে ম্যাডাম (খালেদা জিয়ার)-এর চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কিন্তু ফরমালি প্রফেশনাল বডি হিসেবে টিম নিয়ে ২০২১ সালে ২৭শে এপ্রিল দায়িত্ব নেই। আমাদের তত্ত্বাবধায়ন এভারকেয়ার হাসপাতালে কোভিড সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তি হওয়ার পর দেখতে পাই- ম্যাডাম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। তখন সরকার নির্ধারিত যে চিকিৎসক দল উনার চিকিৎসা করছিলেন তারা ম্যাডামকে মিথোট্রেক্সেট নামক একটি ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছিলেন নিয়মিত। ম্যাডাম রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগে যারা আক্রান্ত থাকেন তাদেরকে মিথোডিক্সেট ট্যাবলেট দিতে হয়। 

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যারা এ ট্যাবলেট খান তাদের নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট করতে হয়। আমাদের কাছে তথ্য আছে- ম্যাডামের লিভার ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাডামের আল্ট্রাসনোগ্রাফি পর্যন্ত করা হয়নি। অনেকে হয়ত বলবেন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে ম্যাডাম রাজি ছিলেন না। কিন্তু আমরা বলব, অনেক টেস্ট করাতে প্রথমে ম্যাডাম রাজি ছিলেন না, কিন্তু কাউন্সেলিং করিয়ে রাজি করিয়েছি। 

তিনি বলেন, ওই সময় লিভার ফাংশন খারাপ হওয়ার কারণে খালেদা জিয়া বারবার বলেছেন- উনার চিকিৎসায় যেন তার পছন্দের চিকিৎসককে মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। কোর্ট তখন জানতে চেয়েছিলেন- তিনি কি সমস্যায় ভুগছেন? কিন্তু বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমান বিএমইউ) চিকিৎসকরা যে রিপোর্ট দিয়েছিল- ঐখানে লিভারের কোনো রোগের কথা উল্লেখই ছিল না। তারা সত্য লুকিয়ে রেখেছিল।

এফএম সিদ্দিক বলেন, এটা ইচ্ছাকৃত অবহেলা, অমার্জনীয় অপরাধ। এটা হত্যার অংশ ছিল কিনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনটি বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন- 

১. সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডে কারা ছিলেন? কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তাকে মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা তাদের ওপর বর্তায় কিনা? 

২. ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক উনার চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন? অবহেলা ছিল কিনা? 

৩. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তখন কী কারণে হয়নি, কারা বাধা দিয়েছিল?

উৎস:মানবজমিন

আরও পড়ুন