ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮:৩৭, ৭ জুন ২০২৬
ফাইল ছবি
পল্লবীর আট বছরের শিশু রামিসাসহ ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার অন্যান্য শিশুর জন্য শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদ।
রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন) শুরু হয়। এ সময় এই শোক প্রকাশ করা হয়।
আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেট।
রোববার বৈঠকের শুরুতে এই অধিবেশনের জন্য সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তারা হলেন- সেলিমা রহমান, ওসমান ফারুক, জয়নুল আবেদীন, মো. শাহজাহান ও শাহজাহান চৌধুরী। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তালিকার অগ্রবর্তীজন বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
এদিকে রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে আজ। রায়ে দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা।
গত ১৯ মে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরে ২৪ মে মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
বিচারকের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগ গঠন করা হয়। একই দিন মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
পরদিন ২ জুন মাত্র এক কার্যদিবসেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত। এ সময় রামিসার বাবা, মা, বোন এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে ওপর আসামি স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
পরে ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
মাত্র পাঁচ কর্মদিবসে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়াকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।