প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১:০৭, ১৯ জুন ২০২৬
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি :সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা একসঙ্গে লড়াই করতে চাই, এই সমাজকে মুক্ত করতে চাই, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, একটি ন্যায্য বাংলাদেশ গড়তে চাই। এমন একটি বাংলাদেশ গঠন করতে চাই, গরিব মানুষ আদালতে গেলে বিচার পাবে, ধনীও আদালতে গেলে বিচার পাবে। বিচারের বাণী আর নিভৃতে কাঁদবে না, সেই বাংলাদেশটা আমরা গড়তে চাই।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের পুরাতন কাচারী এলাকার একটি পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত বার্ষিক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের সংবাদ মাধ্যম বিবেকের আলোকে সত্যকে তুলে ধরবে এবং মিথ্যার সঙ্গে আপস করবে না। আমাদের যুব সমাজ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করে, সেটা আমরা পেয়ে যাব। এখানে যারা ক্যামেরা ধরে আছেন, আমি দেখতে পাচ্ছি এখানে বয়স্ক মানুষ তেমন নাই। আমি একজন যুবক এবং আপনারা আরও বেশি যুবক। আমরা আপনাদের স্বপ্নের কথা বলছি, প্রত্যাশার কথা বলছি। এ সমাজ আপনাদের, শুধু আমার নয়, সবার। আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যেতে চাই। আবার সেই সমাজের প্রয়োজনে যা উত্তম, যা কিছু ভালো, পরামর্শ দিয়েও আমাদের সহযোগিতা করবেন।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের একটা বাজেট দেওয়া হয়েছে। ৫০ থেকে ৬০ আইটেমে কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাজারে কোনো নিত্যপণ্যের দাম কি এক টাকা কমেছে? না। তাহলে কর কমানোর পরে কমে না কেন? কারণ, সব জায়গায় সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট আবার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক প্রশ্রয়, আশ্রয় না পাইলে কোনো সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব জমিনের উপরে থাকবে না। এই আশ্রয়-প্রশ্রয়েই সিন্ডিকেট চালানো হয়। এই বাজেট, যে বাজেটে অনেক কর ছাড় দেওয়া হলো, সেখানে যদি জনগণের জীবনে কোনো পরিবর্তন না আসে, ইতিবাচক পরিবর্তন, স্বস্তি না আসে—তাহলে এটার বেনিফিট কে নিচ্ছে? আমরা চাই ব্যবসায়ীরাও বাঁচুক, জনগণও বাঁচুক। কিন্তু ব্যবসাও আজকে একজন বললেন নারায়ণগঞ্জে, যে কতিপয় সিন্ডিকেটের হাতে এটা বন্দি হয়ে গেছে। এখন আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা আর ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছি না। অবশ্য মুন্সীগঞ্জ, এই জেলার নাম পবিত্র একটা নাম, মুন্সি, তাই না? মুন্সি হলে একটা পবিত্র ভাব বুঝা যায়। যেখানে অনেক আল্লাহর নেক বান্দাগণ ছিলেন। এই নামের খাতিরে আমি বিশ্বাস করি যে মুন্সীগঞ্জে কোনো চাঁদাবাজি হয় না। কিন্তু না, এই নামটুকুর সম্মান করে চাঁদা বাদ দেওয়া গেল না। সারা বাংলাদেশের একই চিত্র। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম, একই চিত্র।
জামায়াত আমির আরও বলেন, কোনো সময় যদি এমন হয় যে এই সংসদ এখন আর কোন যথার্থতা রাখে না, ন্যায় রাখে না, তখন সেই সংসদে এক সেকেন্ডও থাকার দরকার নেই। সংসদ জনগণের জন্য, যদি জনগণের প্রয়োজনে না আসে—সেই সংসদে আমাদের থাকার দরকার নেই। তবে আমরা সরকারকে সময় দিতে চাই, কিন্তু কতকাল? অনন্তকাল? বছরের পর বছর? যে ধারা সরকার শুরু করেছেন, সদিচ্ছার পরিচয় প্রথমে একটা। আমি দুই নম্বরটা চাচ্ছি না, চাঁদাবাজিটা বন্ধ করেন। সারা দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করলে মানুষের জীবনে তিন ভাগের এক ভাগ শান্তি ফিরে আসবে। এরপর আরেকটা বলব। আগে এটাতে হাত দেন। কারা এই দেশে চাঁদাবাজি করে। সবার কাছে ক্লিয়ার।
জামায়াত আমির আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়, রাজনৈতিক কুটির চোর হয়েছে। আজকেই আমি নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসেছিলাম। শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী বন্ধু, বোবা কান্না বলতে চায় না। একজন শুধু বলল, বড় কষ্টে আছে, আরামে নেই। এটা থেকে উদ্ধার করেন। আপনারা সবাই দেন। যেই দল তার কর্মীদের সামাজিক অপকর্ম থেকে বিরত রাখতে পারে না, সেই দলের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার থাকতে পারে না। ঠিক? বিচার জনগণের হাতে।
রুকন সদস্য সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা অঞ্চল দক্ষিণ জাময়াতের পরিচালক ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
জেলা জামায়াতের আমির আ. জ. ম রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন রাজির পরিচালনায় রুকন সদস্য সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি সিরাজুল আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির এ এস এম বায়েজিদ, জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রিফাত হোসেন প্রমুখ।