প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০:৩৯, ১৯ জুন ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার চৌহালী ও কাজীপুরে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছ-পালা। ভাঙনের জন্য অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। পানি বাড়ায় প্রতিদিনই চলাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে এলাকায় ১২ সেন্টিমিটার ও কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টেও ১২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও কাজীপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৯৫ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ২৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তরা জানিয়েছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, গত ৮ জুন থেকে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। মাঝে দুই দিন পানি কমলেও গত তিন দিন একটানা পানি বেড়েই চলেছে। শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে এলাকায় গত ১৭ জুন ১০ সেন্টিমিটার, ১৮ জুন ১৫ সেন্টিমিটার ও ১৯ জুন ১৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। একই সময় কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টে ১৭ জুন ১৫ সেন্টিমিটার, ১৮ জুন ১৩ সেন্টিমিটার ও আজ ১৯ জুন ১২ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এতে চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, আমার বাড়ি ঘর সবই ছিল। ফসলের জমি ছিল। চরের জমিতে ফসল ফলিয়ে সংসার চালিয়েছি। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করিয়েছি। কিন্তু সব কিছু এখন নদী গর্ভে। নদী থেকে যেভাবে বালু তোলা হচ্ছে তাতে পুরো বর্ষা মৌসুমে বাড়িঘর কিছুই থাকবে না।
১নং ক্রস বাঁধ এলাকার জাহিদুল ইসলাম বলেন, সারা বছরই নদী থেকে বালু তোলা হয়। বাঁধের কাছে এসে বালু তোলা হচ্ছে। কেউ বাধা দিচ্ছে না। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ দিয়েছে, এতে স্বস্তি পেলেও বালু তোলায় বাঁধ ভাঙার আতংক বিরাজ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীর পানি বাড়া-কমা স্বাভাবিক। তবে ভাঙন রোধে ঝুকিপূর্ণ্য এলাকায় জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাঁধের কাছাকাছি কোথাও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রমান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চার মাস বর্ষা মৌসুম। এই মহূর্তে বন্যার আশংকা নেই।