ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩:১০, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রতীকী ছবি
জুনের তুলনায় জুলাইয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাড়তে পারে আরও কয়েকগুণ।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের কোথাও টানা বৃষ্টি আবার কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি। ফলে জমে থাকা পানিতে শঙ্কা বাড়ছে এডিস মশার ব্যাপক প্রজননে।
এমন বৃষ্টিপাত এডিস মশার প্রজননের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে হাসপাতালগুলোও। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুনের তুলনায় এ মাসে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। একই অবস্থা মৃত্যুর সংখ্যায়ও। বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, এখনই মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু বাড়তে পারে আরও কয়েকগুণ।
কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, দেশে এ মুহূর্তে সঠিকভাবে ব্যবস্থা নিতে না পারি, তবে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার ঝুঁকি আছে। ঝুঁকির তালিকায় বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু জেলা এবং ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলো রয়েছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের গত দুই বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুনের চেয়ে জুলাইয়ে বাড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও জুনের তুলনায় জুলাইয়ে দ্বিগুণের বেশি রোগী শনাক্তের রেকর্ড মেলে। আর গত বছর এবং চলতি মৌসুমের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রায়ই অর্ধেক। যদিও এ নিয়ে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ঈশিতা বিশ্বাস বলেন, স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই। এ বছরও প্রাদুর্ভাব হতে পারে ভেবেই আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। সরকারি পর্যায় থেকে শুরু করে নাগরিকদের মধ্যেও সতর্কতা থাকতে হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার প্রস্তুতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে রাজধানীসহ সারা দেশে মশক নিধনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।