ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩:০৬, ৪ আগস্ট ২০২৬
ঝালকাঠিতে আমুর বাড়ি I ছবি:বাংলার চোখ
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ৩টি বাড়ি। এর মধ্যে ঢাকার ইস্কাটনের ৩তলা, ঝালকাঠি শহরের রোনালসে সড়কের ৩তলা ও বরিশালের বগুড়া রোডের ৪তলা বাসভবন। ৫ আগস্ট ১টার দিকে ঝালকাঠির রোডের বাড়িতে ভাঙচুর লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগ করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা -কর্মীরা ও বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
কয়েক দফা শেষে ভাঙ্গা দেয়াল ও বাড়ির গেট আটকে দেওয়া হয়। দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা একসময়কার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলটি এখন ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে। বেড়েছে নেশাখোরদের আনাগোনা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির বিভিন্ন স্থানে এখনো ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিহ্ন এখনো স্পষ্ট বিদ্যমান। দরজা-জানালা ভাঙা, দেয়ালের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভবনের ভেতর ও বাইরে স্তূপ হয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। এতে আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখা যায়, সেখানে মাদক সেবনের ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ভবনটি মাদক সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত মে মাসে রাতে কে বা কারা ভবনের প্রধান ফটক ও সামনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ টিন দিয়ে ঘিরে দেয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী সেই টিনের বেড়া অপসারণ করেন। এ সময় লোহার প্রধান গেটের একটি অংশ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি ব্যানার টানানো হয়। এর একটিতে লেখা ছিল, ‘আমাকে ব্যবহার করুন, পৌরবাসীর ময়লা ফেলার স্থান।’
ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বিক্ষুব্ধ জনতা আমির হোসেন আমুর রোনালসে রোডের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করে। এতে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ভেতরের আসবাবপত্র পুড়ে যায়। পরে ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনাও আলোচনায় আসে। এরপর থেকেই বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাড়িটিতে আবারও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে স্থানীয় অনেকেই সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। ফলে এটি কার্যত একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্থানে পরিণত হয়েছে।”
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “বর্তমানে এটি যে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, তা থেকে ফ্যাসিস্টদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।”
আমির হোসেন আমু আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক শিল্পমন্ত্রী এবং ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ঝালকাঠিতে অবস্থানকালে তিনি এই বাসভবনেই থাকতেন। একসময় এখান থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।