ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮:০৭, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত কলেজ গুলোতে একটি করে ক্লিন এয়ার ক্লাবের কমিটি গঠন এবং বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৩ ফেব্রুয়ারি,মঙ্গলবার গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুম স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠান বায়ুদূষণ–সংক্রান্ত গবেষণা, তথ্য আদান–প্রদান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানউল্লাহ এবং সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এবং অনুষ্ঠানে ফোকাল পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী, রেজিস্ট্রার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম, ডিন, স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন প্রশিক্ষণ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাপসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ক্যাপস-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার, ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং মো: নাছির আহম্মেদ পাটোয়ারী, গবেষক, ক্যাপস এবং প্রভাষক, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং ক্যাপসের গবেষণা সহকারী মোহাইমিনুল ইসলাম সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন রেজিস্ট্রার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী এবং ক্যাপস-এর পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর উপচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানউল্লাহ বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাপসের এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। এর ফলে টেকনোলজি হস্তান্তর, যৌথ গবেষণা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। এতে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর সাথে সমঝোতা স্বাক্ষরিত হওয়া মানে সারা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যা নলেজ শেয়ারিং প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, “বায়ু দূষণ গবেষণায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাপস একই সাথে কাজ করবে। এটি শিক্ষার্থীদের গবেষণা মান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের বায়ুমান উন্নয়নে তথ্য উপাত্ত প্রদানে ভূমিকা রাখবে।”
অনুষ্ঠানে ক্যাপস-এর চেয়ারম্যান এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, “নির্মল বায়ু মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বায়ুদূষণ আমাদের স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মকে গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আমার বিশ্বাস, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ক্যাপস এর গবেষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে পরিবেশ আরও সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়ে উঠবে।”
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ক্যাপস এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্তকরণ, বায়ুদূষণ গবেষণা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে পরিষ্কার বায়ু নিশ্চিতকরণে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।