ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩:০০, ৬ জুন ২০২৬
সংগৃৃহীত
চলতি বছরের আগস্ট মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং অক্টোবরের শেষে ভোটগ্রহণ করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে তা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। ইসির মতে, ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা নির্বাচন আগে হওয়াই নিয়ম অনুযায়ী সঠিক। তবে যে নির্বাচনই আগে হোক সেটা কীভাবে ভালো করা যায় সেই ভাবনা রয়েছে সংস্থাটির।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং অক্টোবরের শেষে মাঠপর্যায়ে ভোটগ্রহণ শুরু করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী এই সংস্থাটি। ইসির মতে, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা নির্বাচন আগে হওয়াই নিয়মমাফিক ও সঠিক। তবে যে নির্বাচনই আগে হোক না কেন, তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য ও ত্রুটিমুক্ত করা যায়— সেই কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে কমিশন।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন— এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।’
ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন আগে হওয়াই বাস্তবসম্মত
স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইসি কোন নির্বাচনটি আগে আয়োজন করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন না করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করা যাবে না। কারণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা পদাধিকারবলে (এক্স অফিসিও মেম্বার) উপজেলা পরিষদের সদস্য হন। এই কারণে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা নির্বাচন আগে হওয়াই নিয়ম অনুযায়ী সঠিক এবং এটাই বাস্তবসম্মত। তবে সমান্তরালভাবে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন করা সম্ভব হলেও, জেলা পরিষদের নির্বাচন কোনোভাবেই আগে করা যাবে না; এটি হবে সবার শেষে।”
তফসিল ও ভোটগ্রহণের সুনির্দিষ্ট সময় জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “অক্টোবরের শেষ দিকে ভোট করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলে, সেই অনুযায়ী আগস্টেই তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।”
আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, উপজেলাধীন কোনও ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার কাউন্সিলের মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এটা নিয়োগ করবে যারা ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার আসনের নারী সদস্যগণ বা কাউন্সিলরগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন। তিনি আরও যোগ করেন, “সরকার ইউনিয়ন পরিষদগুলো একেবারে বাতিল করেনি, তবে প্রায় সবগুলোই এখন খালি হয়ে গেছে। তাই শতভাগ নিশ্চিত ধরে নেন যে, নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন থেকেই আমাদের নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।”
ইসির বিধিমালায় কী কী থাকছে
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও সহজ ও প্রভাবমুক্ত করতে নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধিতে আমূল পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চলতি জুন মাসের মধ্যেই এই বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
এসবের মধ্যে— নির্বাচনি প্রচারনায় নিষিদ্ধ করা হয় পোস্টার। এছাড়া অনলাইনে নমিনেশনের জমা দেয়ার পদ্ধতি না থাকা, বিধিমালার পরিবর্তন, দেশে ও দেশের বাইরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট না নেওয়া, ফেরারি আসামিদের প্রার্থীতা না দেওয়া, নির্দলীয় ভোট করা অর্থাৎ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না করা, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) না থাকা, নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য সমর্থন হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা, নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানো, সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইসি।
আচরণবিধির সংশোধন প্রসঙ্গে রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘প্রার্থীদের জামানত জমা দেওয়ার সীমা বাড়বে, অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে না, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ সমর্থনের বিধান থাকছে না, পোস্টার থাকছে না, ইভিএমের ব্যবহার থাকছে না, পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান থাকছে না। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে প্রার্থীদের হলফনামায় আলাদা কোনও অঙ্গীকারনামা থাকবে না। হলফনামায় ফরমের সঙ্গে একটা ঘোষণাপত্র থাকবে। প্রার্থী আচরণবিধি মেনে চলবেন-ঘোষণাপত্রে এমন একটি লাইন যুক্ত হবে।’
সংলাপ নয়, খসড়া উন্মুক্ত হবে ওয়েবসাইটে
চলতি জুনেই শেষ হতে যাওয়া এই বিধিমালার সংশোধন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা এই মাসেই কাজ শেষ করে খসড়াটি ইসির ওয়েবসাইটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেবো। সেখানে সবাই তাদের মূল্যবান মতামত দিতে পারবেন।”
এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল বা অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক সংলাপ বা বৈঠক হবে কিনা— জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট বলেন, “না, আমরা আর আলাদাভাবে কারও সঙ্গে বসবো না। সংলাপ বা বৈঠকের ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হলো, এতে খুব বেশি লাভ হয় না; কেউ সুনির্দিষ্টভাবে নতুন কিছু বলতে পারেন না। তবে কোনও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজন দেখা দিলে তা পরে বিবেচনা করা যেতে পারে।”
তিনি বলেন, “সবকিছু ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকবে। রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ (সিভিল সোসাইটি) সহ দেশের সব নাগরিক সেখান থেকেই মতামত দিতে পারবেন। সবাইকে নিয়ে টেবিলে বসার একটি প্রস্তাব থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটির সম্ভাবনা আমি খুব একটা দেখছি না।”
আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে ইসির অবস্থান
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা অংশ নিতে পারবেন কিনা— নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, কমিউনিস্ট পার্টি— এসব নয়; আমাদের কাছে প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীর গায়ে তো লেখা থাকে না তিনি কোন দলের। একজন ব্যক্তির নাম শুনে কি বোঝা যায় তিনি কোন দলের? যেমন নাম শুনে হিন্দু-মুসলমান বা নারী-পুরুষ বোঝা যায়, কিন্তু তিনি কোন দলের তা বোঝা যায় না। যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। তিনি কোন দল করেন, সেটা নির্বাচন কমিশনের বিষয় নয়।”
উল্লেখ্য, ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং আগামী বছরে উপযোগী হবে আরও ৩৪৯টি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া নতুন করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সেই হিসাবে দেশে মোট সিটি করপোরেশনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩টি। পাশাপাশি নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদন করায় দেশের উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০।