স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০২:৩২, ২২ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ছবি :সংগৃহীত
ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার আসর ফিফা বিশ্বকাপ। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে যাত্রা শুরুর পর ২০২৬ পর্যন্ত ৯৬ বছরের দীর্ঘ পথচলায় এই টুর্নামেন্ট দেখেছে অসংখ্য কিংবদন্তির জন্ম, নাটকীয় ফাইনাল এবং ইতিহাn বদলে দেওয়া মুহূর্ত। সর্বশেষ আসরে স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাসে যোগ হয়েছে নতুন অধ্যায়।
প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে। স্বাগতিক দল আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে। তখন অংশ নেয় মাত্র ১৩টি দল। ১৯৩৪ সালে ইতালি প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ১৯৩৮ সালে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে বিরতির পর ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আসরে ‘মারাকানাজো’ নামে পরিচিত ম্যাচে স্বাগতিকদের হারিয়ে উরুগুয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জেতে। এরপর ১৯৫৪ সালে পশ্চিম জার্মানি এবং ১৯৫৮ সালে ব্রাজিল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে। সেই আসরেই মাত্র ১৭ বছর বয়সে অভিষেক ঘটে পেলের, আর ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এক আসরে ১৩ গোল করে এক অনন্য রেকর্ড গড়েন।
১৯৬২ সালে ব্রাজিল শিরোপা ধরে রাখে। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড একমাত্রবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয় শিরোপা জিতে স্থায়ীভাবে ট্রফি নিজেদের করে নেয়। এই আসরেই প্রথমবার হলুদ ও লাল কার্ড এবং বদলি খেলোয়াড় ব্যবহারের নিয়ম চালু হয়।
১৯৭৪ সালে নতুন ফিফা ট্রফির যাত্রা শুরু হয় এবং পশ্চিম জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা প্রথম শিরোপা জেতে। ১৯৮২ সালে ইতালি তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হয়।
১৯৮৬ বিশ্বকাপ ছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার। ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ দিয়ে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন তিনি। ১৯৯০ সালে পশ্চিম জার্মানি আবারও চ্যাম্পিয়ন হয়।
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফাইনাল প্রথমবার টাইব্রেকারে গড়ায় এবং ব্রাজিল চতুর্থ শিরোপা জেতে। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার ৩২ দলের বিশ্বকাপে ফ্রান্স নিজেদের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।
২০০২ সালে প্রথমবার এশিয়ায় বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়, যেখানে ব্রাজিল পঞ্চম শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ে। ২০০৬ সালে ইতালি টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়, সেই আসরে জিনেদিন জিদানের হেডবাট আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্পেন প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে। ২০১৪ সালে জার্মানি চতুর্থ শিরোপা জেতে। ২০১৮ সালে ফ্রান্স দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হয়, যেখানে প্রথমবার ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
২০২২ সালে কাতারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনাল উপহার দেয়। আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় শিরোপা জেতে। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসি দুটি গোল করেন এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে করেন হ্যাটট্রিক।
২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত আসরে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায় তারা। একই সঙ্গে ৩৯ বছর বয়সে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে তিনটি ফাইনাল খেলার বিরল কীর্তি গড়েন।
৯৬ বরের এই পথচলায় বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন ও গৌরবের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।