ঢাকা, রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩, ০২ সফর ১৪৪৮

বিশ্বকাপের ফাইনালের রেফারি স্লাভকো ভিনচিক

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩:৪৫, ১৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের ফাইনালের রেফারি স্লাভকো ভিনচিক

রেফারি স্লাভকো ভিনচিক।ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিক। আগামী রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই মহারণে প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

৪৬ বছর বয়সী ভিনচিক ২০১০ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ইউরোপের বড় বড় ম্যাচ পরিচালনা করে নিজেকে অন্যতম নির্ভরযোগ্য রেফারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২৪ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ম্যাচ এবং ২০২৩ সালের উয়েফা নেশনস লিগে স্পেন-ইতালির সেমিফাইনালও পরিচালনা করেছিলেন তিনি।

তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ভিনচিকের ক্যারিয়ারে রয়েছে একটি বিতর্কিত অধ্যায়। ২০২০ সালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় একটি অভিযানে পুলিশ তাকে আটক করে, যেখানে একটি মাদক, অস্ত্র ও দেহব্যবসা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন, আগ্নেয়াস্ত্র, নগদ অর্থ এবং একাধিক নারী-পুরুষকে আটক করা হয়।

তবে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন ভিনচিক। তার দাবি ছিল, তিনি শুধুমাত্র একটি লাঞ্চের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। পরে স্লোভেনিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও তার পাশে দাঁড়িয়ে জানায়, তিনি ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি স্বাভাবিকভাবেই রেফারিং ক্যারিয়ার চালিয়ে যান।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালটি হবে ভিনচিকের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ম্যাচ। চলতি আসরে তিনি ব্রাজিল-মরক্কো এবং মেক্সিকো-ইকুয়েডরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে ভিনচিক পরিচিত একটি নাম। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের অপ্রত্যাশিত হারের ম্যাচেও তিনিই রেফারির দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, ভিনচিকের পরিচালনায় এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে হারেনি স্পেন।

বিশ্বকাপের ফাইনালে দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভিনচিক। তিনি বলেন, প্রথমে এটি আমার জন্য বড় একটি চমক ছিল। এরপর অনুভব করেছি অসীম আনন্দ। আমি আক্ষরিক অর্থেই কাঁপছিলাম। বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করা যেকোনো তরুণ রেফারির স্বপ্ন। আমি নিজের এবং আমার পুরো টিমের জন্য অত্যন্ত গর্বিত।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এখন সবার নজর থাকবে শুধু দুই দলের লড়াইয়ে নয়, বরং বিতর্ক পেছনে ফেলে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ মঞ্চে স্লাভকো ভিনচিক কীভাবে দায়িত্ব পালন করেন, সেদিকেও।

  

আরও পড়ুন