আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:০৮, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সেনা কর্মকর্তারা বলেছেন, এ ধরনের হামলার জন্য এখনো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি এবং আরও সময় প্রয়োজন। এর মধ্যেই ইরানে টানা আরেক রাত জুড়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ হয়েছে। অনলাইন নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
তবে জানা গেছে, ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের কথা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন। কোনো কোনো মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, তিনি পেন্টাগনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, শিগগিরই কিছু করবেন। তাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকাও দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেইসব নিরাপত্তা সংস্থার অংশ, যারা বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযানের জন্য দায়ী বলে অভিযুক্ত।
তবে অঞ্চলটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ইরানি প্রতিশোধের ঝুঁকি মাথায় রেখে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ‘নিজেদের সামরিক অবস্থান সুসংহত করতে এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুত করতে হবে’।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্রতর হওয়ায় ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে ‘হস্তক্ষেপ করবে’। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘খুব, খুব কঠোরভাবে- যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা পায়, সেখানেই আঘাত করবে।’
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্পকে যেসব বিকল্প জানানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- তেহরানে অবস্থিত অসামরিক কিন্তু কৌশলগত স্থাপনায় হামলা, অথবা শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দিষ্ট কাঠামোতে আঘাত।
ওদিকে রোববার দিবাগত রাতভর বিক্ষোভ চলতে থাকে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই আন্দোলন এখন ২০২২ সালের হিজাববিরোধী আন্দোলনের চেয়েও বেশি তীব্র ও বিস্তৃত হয়েছে। রোববার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১৯২ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রোববার সকালে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের উত্তর-পশ্চিমে আবিয়েক শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানো হচ্ছে।