আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:৫৪, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের পাল্টা সামরিক হামলার প্রবল আশঙ্কার মধ্যে এবার কাতারের প্রধান বিমানঘাঁটি আল উদেইদ থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার(১৪ জানুয়ারি) তিনটি ভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সন্ধ্যার মধ্যে কিছু সামরিক সদস্যকে নিরাপদ অবস্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের সম্ভাব্য ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকিকে কেন্দ্র করেই এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে যা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রধান সামরিক শক্তিকেন্দ্র। রয়টার্সকে একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, এটি কোনো বাধ্যতামূলক প্রস্থান নয় বরং সামরিক অবস্থান পরিবর্তনের একটি অংশ। তবে দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস কিংবা কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তেহরান এর আগেই আলটিমেটাম দিয়েছিল যে ওয়াশিংটন যদি ইরানে হামলা চালায় তবে সৌদি আরব ও কাতারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিধ্বংসী আঘাত হানা হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। গত বছরও মার্কিন হামলার ঠিক আগে একইভাবে সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নজির দেখা গিয়েছিল যা সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আগাম সঙ্কেত হতে পারে।
২০২৫ সালের জুনে মার্কিন হামলার পর ইরান এই আল উদেইদ ঘাঁটিতেই সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে থাকা এই ঘাঁটির কর্মকর্তাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ওয়াশিংটন এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স