আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৪৮, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
ইরান হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সামরিক মহড়া ও শক্তি প্রদর্শনের জন্য মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এটি বন্ধ করা হলো।
এই প্রথমবারের মতো ইরান গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি বন্ধ করার ঘোষণা দিল, যেখান দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহন করা হয়। ইরানের এই বিরল এবং অভূতপূর্ব পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
আলোচনা শুরু হওয়ার সাথে সাথে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ঘোষণা করে, ইরানি বাহিনী প্রণালীর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক উদ্বেগের জন্য এটি কয়েক ঘন্টার জন্য বন্ধ রাখবে।
এদিকে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী কখনও কখনও এমন একটি থাপ্পড় খেতে পারে যে তারা নিজের পায়ে আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরে ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বলেন যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি নতুন জানালা খুলে গেছে।
তবে, তিনি আরও বলেন যে, ইরান যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং ইরানের উপর যেকোনো আক্রমণের পরিণতি কেবল তার সীমান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
তিনি সামরিক মহড়া বা হরমুজ প্রণালী বন্ধের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো উল্লেখ করেননি। এটি কত সময় ধরে বন্ধ থাকবে এমন কোনো তথ্য জানাননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, যিনি তার প্রথম মেয়াদে ইরানের সাথে পূর্ববর্তী পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছিলেন, বারবার ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমাবদ্ধ করতে বাধ্য করার জন্য শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন। এরপর ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সহিংসতার অভিযোগে তেহরানে সামরিক হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প। এরপর থেকে দু দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী এবং সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তাদের বিপ্লবী গার্ড সোমবার ভোরে হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে একটি মহড়া শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ইরান হরমুজ প্রণালীতে একটি লাইভ ফায়ার ড্রিল করেছে।
ইরান প্রায়ই এই প্রণালীতে সামরিক মহড়া চালায় এবং এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে টানাপোড়েনে এই প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে বন্ধের ঘোষণা দিলো তেহরান। ইসরাইলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান বিশেষজ্ঞ ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেছেন, ইরান শেষবার ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সাথে যুদ্ধের সময় প্রণালীটি বন্ধ করে দিয়েছিল, যখন তারা জলপথে মাইনিং করেছিল।
ইরানের সর্বশেষ ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি বার্তা যে ইরানের উপর যেকোনো হামলার বিশ্বব্যাপী প্রভাব পড়বে। জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সূত্র: এনডিটিভি