আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:২৯, ২০ জুন ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে ইরান আবারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি লেবাননে সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের চুক্তির একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
আজ শনিবার (২০ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম-আল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর জানায়, “ঘোষণা করা হচ্ছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এই প্রাথমিক পদক্ষেপটি ‘শত্রুর’ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের একটি জবাব। যদি এই আগ্রাসন অব্যাহত থাকে, তবে শত্রুকে তার বাধ্যবাধকতা মানতে বাধ্য করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়ন করা হবে।”
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল গত দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম পর্যায়ে পৌঁছে। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সংস্থাগুলো এ তথ্য জানায়।
ট্র্যাকিং ফার্ম 'এএক্সএসমেরিন'-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সদ্য উন্মুক্ত হওয়া এই প্রণালি দিয়ে মোট ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যা এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে সর্বোচ্চ। মার্চের শুরুর দিক থেকে দৈনিক গড়ে যেখানে মাত্র সাতটির কিছু বেশি জাহাজ চলাচল করছিল, সেই তুলনায় এই সংখ্যা ছিল তিন গুণেরও বেশি।
এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বাড়ার লক্ষণ হিসেবে একজন প্রত্যক্ষদর্শী শুক্রবার বলেন, প্রণালির ঠিক দক্ষিণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোরফাক্কান বন্দরের বাইরে খালি ট্রাকের লাইন প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে এবং সেখানে অন্তত চারটি কনটেইনার জাহাজ থেকে মালামাল খালাস করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, কুয়াশাচ্ছন্ন দিগন্তে আরও বেশ কিছু জাহাজ দেখা যাচ্ছিল, যেগুলো দৃশ্যত জেটিতে নোঙর করা এবং মালামাল খালাসের জন্য নিজেদের পালার অপেক্ষায় ছিল।
চলতি সপ্তাহে যুদ্ধ অবসানের চুক্তির আওতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথটি পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হওয়ার পরই জাহাজ চলাচলের এই জোয়ার আসে। তবে এই বৃদ্ধিটি ঘটেছিল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়ার আগেই।
এএক্সএসমেরিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পারাপার হওয়া জাহাজের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ কিছু জাহাজ শনাক্তকরণ এড়াতে তাদের এআইএস (অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) ট্রান্সপন্ডার সিগন্যাল বন্ধ করে রেখেছিল।
সূত্র: এএফপি