ঢাকা, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

৬ আষাঢ় ১৪৩৩, ০৪ মুহররম ১৪৪৮

জুয়েলারি দোকানের দেয়াল কেটে ২০০ ভরি স্বর্ণ চুরি

প্র্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১:৫৭, ২০ জুন ২০২৬

জুয়েলারি দোকানের দেয়াল কেটে ২০০ ভরি স্বর্ণ চুরি

ছবি :সংগৃহীত

রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টি এলাকায় একটি জুয়েলারি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, দেয়াল কেটে দোকানে প্রবেশ করে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রূপার অলংকার এবং নগদ ২০ লাখ টাকাসহ আনুমানিক সাত কোটি টাকার মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনাটি ঘটেছে কারুশ্রী জুয়েলার্সে। দোকানটির মালিক তুর্য সরকার। ঘটনার খবর পেয়ে দোকানে এসে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় সাহেববাজার এলাকার স্বর্ণা হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত কারুশ্রী জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা প্রথমে পাশের আফিয়া জুয়েলার্সের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দুই দোকানের মাঝের দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে ঢুকে স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। আফিয়া জুয়েলার্সে মূল্যবান মালামাল না থাকায় সেখান থেকে কিছু খোয়া যায়নি।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার রাতে দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা বাড়ি চলে যান। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বাজার বন্ধ ছিল। শনিবার সকালে দোকান খুলতেই চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে।

খবর পেয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম অপু জানান, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ছয় কোটি টাকার ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রূপা এবং নগদ ২০ লাখ টাকা লুট হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাত কোটি টাকা।

তবে পুলিশ ঘটনাটিকে চুরি হিসেবে দেখলেও জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা এটিকে পরিকল্পিত ডাকাতি বলে দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, এত বিপুল পরিমাণ মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাধারণ চুরি নয়।

ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাজশাহীর জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব জুয়েলার্সের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মালামাল উদ্ধার ও দায়ীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী মহানগরীতে চুরির ঘটনা বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির এসির পাইপ ও তামার তার চুরির অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন