আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:৫৪, ২৫ জুলাই ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র চাপে ফেলে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু এমন চুক্তিতে সম্মত হচ্ছে না তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরই এক বক্তব্য থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউজে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সংঘাত বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে তেহরান এখনো একটি চুক্তি করতে প্রস্তুত নয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। ট্রাম্প এমন এক সময়ে এসব মন্তব্য করছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানের সড়ক, রেলপথ, সেতুর মতো বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
এর আগে সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের জন্য চুক্তিতে সম্মত হয় তেহরান ও ওয়াশিংটন। কদিন না যেতেই চুক্তি ভঙ্গ করে ইরানে হামলা শুরু করেন ট্রাম্প।
যুদ্ধে সব সময় ইরানের পাশে থাকে চীন ও রাশিয়া। এ অবস্থায় ট্রাম্প চান ওই দুই দেশ যেন ইরানকে কোনো সহায়তা না করে।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্বে ইরানকে সহায়তা না করার বিষয়ে তিনি চীন ও রাশিয়ার ওপর আস্থা রাখেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা যদি এতে জড়িয়ে পড়ে, তবে ‘তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হবে।’
ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘বেইজিংয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি আমাকে বলেছিলেন- কোনো অবস্থাতেই তিনি ইরানকে অস্ত্র দেবেন না বা বিক্রি করবেন না। চীনের কোম্পানিগুলোও ইরানে অস্ত্র বিক্রি করবে না।’
হামলার তীব্রতা বাড়ছে: ইরানে অব্যাহত হামলার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তার শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা ইরানে হামলা আরও বাড়ানোর বিষয়ে কথা বলেন।
সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে শনিবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের বিষয়ে নিজের কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ট্রাম্প এখন এক সম্ভাব্য সন্ধিক্ষণের মুখোমুখি। এমন এক সময়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো যখন একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে করা সমঝোতা স্মারকটি ভেস্তে গেছে।
ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা হোয়াইট হাউজ প্রকাশ করেনি। তবে প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখা সত্ত্বেও নির্দেশ পেলে সামরিক বাহিনী আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে প্রস্তুত।
এর আগে বৃহস্পতিবার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি একটি বিশাল হামলার কথা বিবেচনা করছি। যা আগের যে কোনো হামলার চেয়ে বড় হবে। আমি সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আমরা এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
তিনি ইঙ্গিত দেন, নতুন করে উত্তেজনা বাড়লে তাতে ইসরাইল সম্ভবত অংশ নেবে না। এ অবস্থায় সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, সম্প্রতি ইরানের সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাথমিকভাবে এসব হামলা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হলেও এখন তা রাজধানী তেহরানের কাছাকাছি এলাকায়ও হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স