ঢাকা, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

১০ শ্রাবণ ১৪৩৩, ০৯ সফর ১৪৪৮

রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে দা দিয়ে কোপ,বাবা-মা আটক

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি

প্রকাশ: ২৩:১২, ২৫ জুলাই ২০২৬

রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে দা দিয়ে কোপ,বাবা-মা আটক

ছবি :সংগৃহীত

রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে মাদকাসক্ত ছেলেকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার মা-বাবার বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মাকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে আসামবস্তি এলাকার জনৈক সিরাজ সওদাগরের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম সাকিবুল ইসলাম (২৫)। তিনি অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম ও গৃহবধূ রাখাই ইসলামের দুই সন্তানের মধ্যে বড়।

পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, সাকিবুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার চিকিৎসা করানো হয় এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়। কয়েক মাস আগেও তাকে রিহ্যাবে পাঠাতে তাঁর বাবা প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করেন। তবে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও তিনি আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।

স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকাসক্তির কারণে সাকিবুলের আচরণে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিল। মাদক সেবন ও কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই তাঁর ঝগড়া-বিবাদ হতো। থানা ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাকিবুল মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। কিছুদিন আগেও তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। জামিনে বের হওয়ার পর আবারও মাদক সেবন ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার দুপুরে সাকিবুলের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের কথা-কাটাকাটি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাঁর মা ধারালো দা দিয়ে ছেলের ঘাড়ে কোপ দেন বলে অভিযোগ। এতে সাকিবুলের ঘাড়ে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

পরে স্থানীয় অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম আহত সাকিবুলকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফুয়াদ হাসান জানান, ঘাড়ে গুরুতর কাটা জখম অবস্থায় সাকিবুলকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে আনার আগেই প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্তসঞ্চালন কমে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের বাবা-মাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া ও মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সাকিবুলের মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির জন্য তাঁর বাবা-মা একাধিকবার চেষ্টা করেছেন। দরিদ্র অটোরিকশাচালক বাবা সন্তানের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেননি বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

এদিকে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও মাদকাসক্ত ছেলের আচরণে পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে পড়ার অভিযোগের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বাবা-মায়ের হাতেই ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কার আঘাতে সাকিবুলের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন