আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০০:১১, ২৮ জুলাই ২০২৬
ফাইল ছবি
টানা ৩৭ দিনের আন্দোলন থামার ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বসেছে ভারতের তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম তেলাপোকা বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এবার তাদের অভিযোগ, আটক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে মোদি সরকার।
এ অবস্থায় সাম্প্রতিক আন্দোলনে যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের সবার মুক্তি দাবি করেছে সিজেপি। আর তা না হলে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকেই কঠোর আন্দোলন শুরু হবে বলে ঘোষণা করেছে ভারতীয় তরুণদের নতুন প্লাটফর্মটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল দাবির একটি বাস্তবায়িত হওয়ায় অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর দিল্লির যন্তর মন্তরে ৩৭ দিনের টানা অবস্থান কর্মসূচি ‘সম্মানের খাতিরে’ তুলে নিয়েছিল অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন ‘তেলাপোকা পার্টি’।
কিন্তু সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বিজেপি নেতা ও দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জীতেন্দ্র সিংকে উদ্দেশ্য করে সোমবার (২৭ জুলাই) লিখেছেন, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশন না নেওয়ার যে চুক্তি হয়েছিল, তা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিহার ও বাংলা থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লির লজিস্টিক সহযোগিতাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের আটক এবং বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি ও হেনস্তার একের পর এক খবর আসছে।
তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং চুক্তি অনুযায়ী দিল্লি পুলিশ বা কেন্দ্র ও বিজেপির মিত্র রাজ্যগুলোর পুলিশ যেন নতুন কোনো এফআইআর দায়ের না করে, সেই দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, আমরা আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।
একইসঙ্গে আলোচনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মামলা বাতিলের লিখিত চুক্তি আগামীকালকের মধ্যে তাদের হাতে হস্তান্তরেরও দাবি জানিয়েছেন সিজেপির এই মুখপাত্র।
কনস্টিটিউশন ক্লাবে মন্ত্রীদের সঙ্গে শনিবারের তৃতীয় দফার বৈঠকের পর সিজেপি বলেছিল, নিট পরীক্ষার জালিয়াতিতে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ভারতজুড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা সব এফআইআর তুলে নিতে কেন্দ্রীয় সরকার রাজি হয়েছে।
সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করে সিজেপি বলেছে, চার সপ্তাহ পর পরবর্তী দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির পর ভারতজুড়ে আন্দোলকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। শুরু থেকেই এসব মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার শর্ত দিয়েছিল সিজেপি।
সূত্র: এনডিটিভির