ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৯ মুহররম ১৪৪৮

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন করা হবে:প্রতিমন্ত্রী  

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি

প্রকাশ: ০০:২৭, ১৬ জুলাই ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন করা হবে:প্রতিমন্ত্রী  

ছবি:বাংলার চোখ

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে, ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পরিদর্শন করতে এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে বাঘাইছড়ি সফর করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। সফরকালে বন্যাদুর্গত মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো বিভেদ, বৈষম্য বা অবিচারের স্থান হবে না। সুশাসন, ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে এ অঞ্চলকে বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধশালী অঞ্চলে পরিণত করা হবে।" 

বুধবার দুপুরে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে দূর্গত বানবাসী মানুষদের পরিস্থিতি  সরেজমিনে  দেখতে গিয়ে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, খাল, ছড়া ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ সচল রাখতে খাল, উপখাল ও নদী দখল কিংবা ভরাটের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।

মীর হেলাল বলেন, "আমরা সাময়িক সমাধানে বিশ্বাস করি না। প্রয়োজন হলে বেশি ব্যয় করেও স্থায়ী ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্যোগে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি পরিবার। এই পরিবারের সবাই ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে, সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালিসহ সব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পার্বত্য অঞ্চলের কৃষি, পর্যটন, শিল্প-সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব খাতের পরিকল্পিত উন্নয়ন ঘটাতে পারলে পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি জানান, বাঘাইছড়ি-লংগদু উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নদী ড্রেজিং ও বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতা পরিবারের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য এক মাসের কিস্তি ও সুদ আদায় স্থগিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের কাছে জবাবদিহিতা রয়েছে। তাই ছোট ছোট প্রকল্পে অর্থ ব্যয় না করে প্রতিটি উপজেলায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী জানান, বাঘাইছড়িতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।

সভায় উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, "জনসেবা নিশ্চিত করা, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য অর্জনে সম্প্রীতি, ঐক্য ও সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য।"

মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্ভোগ দ্রুত লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। এছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন