টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০০:১৩, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের এক তরুণের স্বপ্নযাত্রা পৌঁছেছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন মঞ্চে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের সন্তান শেখ মাজহারুল ইসলাম সোহান যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস থেকে সফলভাবে আইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়।
চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার এই অর্জন তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের ত্যাগের এক অনন্য স্বীকৃতি।
শেখ মাজহারুল ইসলাম সোহান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট শাহাবুদ্দিন ও মরিয়ম বেগমের সন্তান। তিনি ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ইংরেজি ভার্সনের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
উচ্চশিক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন করতে গিয়ে তাকে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরিচিত পরিবেশ ও পরিবার থেকে দূরে থেকে নতুন দেশের শিক্ষা ও জীবনব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তবে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও একাডেমিক নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সব বাধা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সোহান বলেন, আমি চর এলাকার সন্তান। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নই আমার শিকড়। পড়াশোনার কারণে গ্রামের বাড়িতে খুব বেশি সময় থাকা হয়ে ওঠেনি, কিন্তু নিজের শেকড়কে আমি সব সময় হৃদয়ে ধারণ করি।
তিনি বলেন, একজন সেনাসদস্যের সন্তান হিসেবে শৃঙ্খলা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমার পথচলা শুরু হয়েছে। চরাঞ্চল থেকে একদিন যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করব এটি একসময় আমার কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং আমার আব্বু আম্মুর সর্বোচ্চ ত্যাগের কারণেই এই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
নিজের এই অর্জনকে শুধু একটি শিক্ষাগত সনদ হিসেবে দেখছেন না শেখ সোহান। তাঁর কাছে এটি দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য, ত্যাগ এবং কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতার প্রতীক।
তিনি বলেন, এই সাফল্য শুধু আমার একার নয়। এটি পশ্চিম টাঙ্গাইল, বিশেষ করে কাতুলী ইউনিয়নের মানুষের অর্জন। আমার পথচলা প্রতিটি স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিক কঠোর পরিশ্রম করলে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে অসম্ভব মনে হওয়া লক্ষ্যও একদিন অর্জন করা সম্ভব।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি। আইনশিক্ষাকে মানুষের ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যবহার করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যেন অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশ, সমাজ এবং বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করতে পারি সবার কাছে সেই দোয়া চাই।
সোহানের এই অর্জনে তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, শিক্ষক ও পরিচিতজনেরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন, নিজের মেধা, পরিশ্রম ও অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জন করবেন এবং দেশ ও চরাঞ্চলের মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
চরের মাটি থেকে ওয়েলসের সমাবর্তন মঞ্চে পৌঁছানো শেখ সোহানের এই যাত্রা প্রমাণ করে প্রতিকূলতা যত বড়ই হোক, লক্ষ্য স্থির থাকলে এবং চেষ্টা অব্যাহত রাখলে স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ নেয়।