ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০০:৫৯, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ যত কার্যকর ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হবে, ততই মানুষের হতাশা দূর হবে। গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা বাড়বে এবং দেশ গঠনে জনগণ আরও উৎসাহিত হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিনে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ। আমরা সব সময় বলে আসছি এটি মজলুমের মিলনমেলা। সংসদকে নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে পরিচালনা করতে হবে, যাতে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।’
বক্তব্যের শুরুতে শফিকুর রহমান শহীদ, যোদ্ধা ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একইসঙ্গে সম্প্রতি বন্যা, ভূমিধস ও পানিতে ডুবে নিহতদের স্মরণ করে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। নিহতদের পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দুর্নীতিকে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসের কোনো সুযোগ নেই। দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক যদি এই সংসদ না হয়, তাহলে বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি বিদায় নেবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজীবন অচল হয়ে পড়ে, জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, এবং এ খাতে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ জরুরী। রাজধানীই দেশের মুখ। তাই ঢাকাকে বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করা জরুরি।
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত করার আহ্বান জানান।
সংসদে বিরোধী দলের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদেরও উন্নয়ন বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবাই সমান মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রাখেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার সরকারি উদ্যোগ ইতিবাচক। তিনি শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করে ইতিহাসের অংশ হিসেবে লিপিবদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।