ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫:০৫, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৯ বছর ৩ মাস ১৯ দিন বিরতির পর দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার পরিচালনায় তিনি ৪৯ সদস্যের একটি শক্তিশালী মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। এতে প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণদের উদ্যমকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে রেখেছেন। এগুলো হলো— প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টনে দেখা গেছে যে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেখানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন মীর শাহে আলম। দেশের অর্থনীতি সামলানোর ভার পড়েছে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ওপর যিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এবং তার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন জোটের শরিক নেতা জোনায়েদ সাকি।
অত্যন্ত সংবেদনশীল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যেখানে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন ববি হাজ্জাজ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে এবং এই দপ্তরে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করবেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ভার পেয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী হিসেবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ শরীফুল আলম নিযুক্ত হয়েছেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অভিজ্ঞ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পূর্ণমন্ত্রী এবং অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এম এ মুহিতকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমিন উর রশিদ এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মধ্যে পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব পেয়েছেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হয়েছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এবং সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে নিতাই রায় চৌধুরীকে মনোনীত করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ে মিজানুর রহমান মিনু, প্রবাসী কল্যাণে আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আফরোজা খানম রিতা দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্তে জাকারিয়া তাহের সুমন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীপেন দেওয়ান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী হিসেবে আসাদুল হাবিব দুলু নিয়োগ পেয়েছেন। জনপ্রশাসন ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন যথাক্রমে আব্দুল বারী এবং সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক।