ঢাকা, সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬

১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩, ১৭ সফর ১৪৪৮

সৌদি জোটে যোগদান কৌশলগত কারণে : হুমায়ুন কবির

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১:৩১, ২ আগস্ট ২০২৬

সৌদি জোটে যোগদান কৌশলগত কারণে : হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।  ছবি :সংগৃহীত

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান কোনোভাবেই ইরানকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং হুতি হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতার অংশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা জানান।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে হুতিদের হুমকি মোকাবিলার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছি। তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।

হুমায়ুন কবির বলেন, মূল বিষয়টি হলো সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক শুধু হজ বা ওমরাহর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব ইসলাম ধর্মের দুটি পবিত্র মসজিদ—মক্কা ও মদিনার রক্ষক। এ কারণে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি সহযোগিতা চায়, এই আত্মিক ও নৈতিক সম্পর্কের জায়গা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতিমূলক ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

হুমায়ুন কবির জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গোরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সফর শেষে সার্জিও গোর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির জানান, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেমন চীনের বিনিয়োগ রয়েছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।

 

আরও পড়ুন