ঢাকা, সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬

১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩, ১৭ সফর ১৪৪৮

ঢাবি নাটমণ্ডলে ‘শ্রাবণ বরিষণে’

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২:৫৬, ২ আগস্ট ২০২৬

ঢাবি নাটমণ্ডলে ‘শ্রাবণ বরিষণে’

ছবি :সংগৃহীত

শ্রাবণের স্নিগ্ধ বর্ষাধারাকে ঘিরে কবিতা, আবৃত্তি ও সংগীতের সম্মিলিত পরিবেশনায় উদযাপিত হয়ে গেল ‘শ্রাবণ বরিষণে: কাব্য সুরে বর্ষা বন্দনা’ শীর্ষক বিশেষ আবৃত্তি ও গানের অনুষ্ঠান। আবৃত্তি সংগঠন কাব্যকুহুক ও পারফরমার্স ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী ও সংবাদ উপস্থাপক ফারহানা তৃনা।
 
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন দর্শকদের জন্য হয়ে ওঠে বর্ষার রূপ, রস ও অনুভূতির এক অনন্য শিল্পভ্রমণ। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রিয়াংকা গোপ।

 সমবেত কণ্ঠে কবিতা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর আবৃত্তিশিল্পী ফারহানা তৃণার আবৃত্তি এবং সংগীতশিল্পী বিজন মিস্ত্রির সুরেলা পরিবেশনায় সৃষ্টি হয় গান ও কবিতার এক অনন্য যুগলবন্দি। একক ও সমবেত পরিবেশনায় বর্ষার সৌন্দর্য, আবেগ, বেদনা, কদমফুলের সৌরভ, গ্রামীণ জীবনের মনোরম দৃশ্যপট এবং ঋতুর বৈচিত্র্য কবিতার ছন্দ, আবৃত্তির আবহ ও সংগীতের মূর্ছনায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। দর্শকরা উপভোগ করেন বৃষ্টিভেজা প্রকৃতির অনুভবকে শিল্পিতভাবে মঞ্চে তুলে ধরার এক মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা।

 অনুষ্ঠানে কাব্যকুহুকের নবীন ও শিশুশিল্পীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় করে তোলে। কবিতা, আবৃত্তি ও সংগীতের সম্মিলিত পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে বর্ষার আবহকে নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ সৃষ্টি করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন,ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে প্রতিটি ঋতুকেই আমরা নিজস্ব আবেগ ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বরণ করি। নির্মল ও সবুজ প্রকৃতির মতোই নতুন প্রজন্ম সুস্থ, সুন্দর ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কাব্যকুহুক সেই দায়িত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে পালন করছে।
 
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. প্রিয়াংকা গোপ বলেন,আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে শিশুরা মন খুলে গান গাইবে, আবৃত্তি করবে এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চায় বেড়ে উঠবে। এই ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
 
আয়োজনে অংশগ্রহণকারী শিল্পী, অতিথি এবং উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কাব্যকুহুকের পরিচালক ফারহানা তৃনা বলেন,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর বাণী ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’কে ধারণ করে কাব্যকুহুক চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সী মানুষের কাছে কবিতা ও আবৃত্তিকে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য নতুন শ্রোতা তৈরি করা এবং কবিতা-আবৃত্তির প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলা।

বর্ষা ঋতুকে ঘিরে কবিতা, আবৃত্তি ও সংগীতের এমন সাংস্কৃতিক আয়োজন স্মরণীয় করে তোলে দর্শকের মুহূর্ত। শিল্পসম্মত উপস্থাপনা, প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এবং দর্শক উপস্থিতিতে দিনটিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডল। 

আরও পড়ুন