আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০০:১১, ৩ আগস্ট ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
গ্রিসে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় মাঝআকাশে দুটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চারজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২ আগস্ট) এথেন্সের পশ্চিমে সাথা এলাকায় আগুন নেভানোর সময় দুটি বেল হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছে গ্রিসের ফায়ার সার্ভিস।
এদিকে করিন্থ উপসাগরের তীরবর্তী পোর্তো জেরমেনো এলাকাতেও আরেকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। আগুন পাহাড় পেরিয়ে একটি সামরিক ফায়ারিং রেঞ্জে পৌঁছালে সেখানে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দেয়।
বর্তমানে প্রায় ৫০০ দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। পাশাপাশি ফ্রান্স ও রোমানিয়া থেকেও অতিরিক্ত সহায়তা পৌঁছেছে।
অল্প বৃষ্টিপাত ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে।
গ্রিসে কয়েকদিন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও আবার নতুন করে বিভিন্ন স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। প্রবল বাতাস কিছুটা কমে এলেও আগুন ভেনিজা গ্রামে পৌঁছে গেছে। মেগারা উপকূলীয় শহরে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি পুড়ে গেছে।
আগিওস কনস্তানতিনোস গ্রামের বাসিন্দা ৬১ বছর বয়সী তাসোস জেমবেলিকোস বলেন, গত রাত থেকেই আগুন জ্বলছে। সব জায়গায় দমকল পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই আমরা স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের সাধ্যমতো আগুন নেভানোর চেষ্টা করছি।
এদিকে কেফালোনিয়া দ্বীপে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ফ্রান্সের জিরন্দ ও ভার অঞ্চলের দাবানল কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও বিচ্ছিন্নভাবে আগুন জ্বলছে। স্পেনের মধ্যাঞ্চলেও গত সপ্তাহে কয়েক হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেলেও অধিকাংশ এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কিছু স্থানে আবারও আগুন জ্বলে উঠছে।
স্পেনের কাসেরেস প্রদেশে সরিয়ে নেওয়া প্রায় ৮০০ বাসিন্দাকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় তাদের ঘরের মধ্যেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দাবানলের পাশাপাশি ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ নতুন সংকট তৈরি করেছে। হাঙ্গেরিতে দানিউব নদীর পানি রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার সতর্ক করে বলেছেন, দানিউবের পানি কমে যাওয়া, পারমাণবিক কেন্দ্র বন্ধ থাকা এবং শতাধিক শহর ও গ্রামে পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ জারির কারণে দেশটি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ সময় পার করছে।
এদিকে সার্বিয়াতেও খরার কারণে দানিউব নদীর পানির স্তর ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ফলে দেশটির জলবিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
জ্বালানিমন্ত্রী দুব্রাভকা জেদোভিচ হানদানোভিচ জানান, দেশটির সবচেয়ে বড় দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে তাদের উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। গত পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ ধরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দানিউব নদীর পানির স্তর ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা